কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি

বৃষ্টির পানিতে থইথই নারায়ণগঞ্জ শহর। প্রধান সড়ক থেকে পাড়া-মহল্লা, ফ্ল্যাট, বসতঘর সর্বত্রই পানি আর পানি। বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে শহরের ডিএনডি এলাকার জালকুড়ি, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা ও ফকির রোডসংলগ্ন এলাকার ঘরে ঘরে পানি দেখা যায়। মাসদাইর, ইসদাইর ও দেওভোগের অধিকাংশ মহল্লায় হাঁটুপানি। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায়। হাঁটুপানির নিচে বঙ্গবন্ধু সড়ক। পূর্ব ইসদাইর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার অলিগলি তলিয়ে গেছে। এই এলাকার যেসব রাস্তায় আগে কখনো পানি জমেনি, সেখানেও থইথই পানি দেখা যায়।

ভয়াবহ অবস্থা ডিএনডি এলাকার আওতাধীন জালকুড়ির খিলপাড়ায়। প্রায় তিন মাস এখানকার পুরো এলাকা হাঁটুপানির নিচে। গতকালের বৃষ্টিতে আরও দেড় ফুট পানি বেড়ে এখন কোমর ছুঁই ছুঁই। নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ ফসলি জমি। এ ছাড়া চাষাঢ়া, জামতলা, মিশনপাড়া, আমলাপাড়া, নিতাইগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। গলাচিপা, কুড়িপাড়া, ডিএনএ রোড, টিঅ্যান্ডটি কলোনি, সরকারি তোলারাম কলেজের ভেতরে ও সরকারি মহিলা কলেজের সামনে পানি জমেছে। দুর্ভোগ নিয়ে বাস-ট্রাক ও রিকশায় মানুষ চলাচল করছে।

শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ দেশ রূপান্তরকে জানান, বসতঘরে পানি ঢুকে যাচ্ছেতাই অবস্থা। আসবাব থেকে সবকিছুই পানিতে নষ্ট হচ্ছে। কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নামেই সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস করি। কোনো নাগরিক সুবিধা নেই। শুনেছি শহরের ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, তা এখন ভালোই টের পাচ্ছি।’

সকালে সমবায় মার্কেটের দোকানিদের দোকান থেকে পানি বের করতে দেখা যায়। অনেকেই বাড়িতে পানিবন্দি অবস্থায়। সমবায় মার্কেট পরিচালনা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘মার্কেটের অনেক দোকানে পানি ঢুকলেও আমাদের কিছু করার নেই। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে সিটি করপোরেশন।’

শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ড্রেনগুলো অনেক পুরনো। এগুলোই কিছুটা সংস্কার করে পানি নিষ্কাশন করা হয়। কিন্তু নগরীর মার্কেট ও দোকান থেকে ফেলা পলিথিনের কারণে ড্রেনগুলো আটকে থাকে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।’