যাত্রী সংকটে চাঁদপুর-ঢাকা রুটের বেশিরভাগ লঞ্চ বন্ধ

কয়েক দিন আগেও চাঁদপুর যে ঘাট থেকে গাদাগাদি করে মানুষ লঞ্চে ঢাকায় যাতায়াত করেছে এখন সেখানে উল্টো চিত্র। চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে যাত্রী সংকটে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে লঞ্চ চলাচল। ধারণক্ষমতার চার ভাগের একভাগ যাত্রীও মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে এই রুটে চলাচলকারী ২৩টি লঞ্চের মধ্যে ১৫টি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। এতে করে ঘাটে নির্ধারিত লঞ্চ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।

যাত্রী সংকট অব্যাহত থাকলে চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে আরও কিছু লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন লঞ্চের কর্মচারীরা। স্বাভাবিক সময়ে চাঁদপুর থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন পথে অর্ধশতাধিক লঞ্চ চলাচল করে থাকে।

মহামারী করোনার কারণে ৬২ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে চাঁদপুর থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। চালুর প্রথম সপ্তাহে যাত্রীদের গাদাগাদি করে যাতায়াতের কারণে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়। যাত্রীদের চাপ সামলাতে স্থানীয় প্রশাসন বিপাকে পড়ে। কিন্তু এর এক সপ্তাহ পরেই পাল্টে গেছে এই বন্দরের চিত্র। যাত্রী সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে বেশির ভাগ লঞ্চ।

যাত্রী সংকটে রফ রফ কোম্পানির ৩টি লঞ্চ, সোনার তরীর ২টি, ময়ূর কোম্পানির ২টি, জম জম কোম্পানির ১টি, তাকোয়া ও মিতালি-৭ নামের লঞ্চসহ প্রায় ১৫টি লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চের জন্য অনেক যাত্রী  অপেক্ষা করছেন। ঢাকাগামী যাত্রী ফয়সাল জানান, নির্ধারিত শিডিউল না মেনে লঞ্চের মালিকপক্ষ অনিয়মিতভাবে লঞ্চ ছাড়ছে। ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঢাকা যাওয়ার জন্য। বিশেষ করে যারা পরিবার পরিজন নিয়ে যাত্রা করেন তাদের কষ্টের সীমা থাকে না।

এমভি প্রিন্স অব রাসেল-৩-এর সুপারভাইজার রুহুল আমিন ও এমভি সোনার তরী-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন বলেন, লঞ্চে ধারণক্ষমতার চার ভাগের এক ভাগ যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে মোটা অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়ছে মালিকপক্ষ। যাত্রী সংকটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় কর্মসংস্থান নিয়ে শঙ্কিত লঞ্চের কর্মচারীরা। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও আরও লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর চাঁদপুর জেলা বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা কাউসারুল আলম বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে লঞ্চ চলাচলে। যাত্রী সংখ্যা কমে আসায় অনেক লঞ্চ মালিক তাদের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখছেন। আমরা অচিরেই তাদের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যা দূর করতে ব্যবস্থা নেব।