দ. আফ্রিকায় আরেক মহামারী ঢেউ নারী ও শিশু হত্যা

সপ্তাহ আগে ২৮ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ জোহানেসবার্গে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার নারীর বিরুদ্ধে যে ভয়ানক মাত্রায় সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে তার অন্যতম উদাহরণ ওই তিন নারীর মৃত্যুর ঘটনা। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গত বুধবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে বলেন, ‘একজন পুরুষ, স্বামী ও বাবা হিসেবে আমাদের দেশের নারী ও শিশুদের ওপর যে লড়াই চালানো হচ্ছে তাতে আমি হতবাক হয়েছি। এই নারীরা শুধু সংখ্যা নয়, তাদের পরিচয় আছে। তাদের পরিবার ও বন্ধুজনেরা আছে।’ এর আগে গত শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, দেশে নারীদের এই হত্যার ঘটনা প্রমাণ করছে যে সমাজের গভীরে এখনো নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতা রয়ে গেছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী হত্যার হার সর্বাধিক। গত বছর ২ হাজার ৭০০ নারী ও ১ হাজার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। রামাফোসার মতে, দেশের ৫১ শতাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন তাদের সঙ্গীদের হাতে। গত জুনে লকডাউন পরিস্থিতি শিথিল করা হলে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মহামারীর সময় আমাদের দেশ যখন গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তখনই এমন জঘন্য ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। হিংস্র পুরুষরা লকডাউন তুলে নেওয়ার সুযোগ নিয়ে নারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

কৃষ্ণাঙ্গ নারী ককাস নামক একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ফাতিমাতা মতলুস্তের মতে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লকডাউন শিথিল করার পর এই সংকট আরও বেড়েছে।’ নারীদের সুরক্ষায় ও নারীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচারের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া যাতে দ্রুততার সঙ্গে হয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, প্রেসিডেন্টের শুধু নির্দেশনা দেওয়া ছাড়া আরও কাজ রয়েছে যা নারীদের সুরক্ষায় জরুরি। প্রেসিডেন্টের কথার প্রয়োগ দেখতে চান তারা।