দুই দশক আগে আলবার্তো আদ্রিয়ানো নামে এক কৃষ্ণাঙ্গকে নব্য-নাৎসিরা পিটিয়ে মেরেছিল। মোজাম্বিক থেকে আসা ৩৯ বছর বয়সী আলবার্তো আদ্রিয়ানোকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারার খবর জার্মানিতে সাড়া ফেলেছিল ২০ বছর আগে। তিন সন্তানের জনক আলবার্তো সেই রাতে ফুটবল ম্যাচ দেখে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তিন নব্য-নাৎসির উপর্যুপরি ঘুসি আর লাথিতে আলবার্তো জ্ঞান হারান। জার্মানির পূর্বাঞ্চলের স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের ডেসাউ শহরের স্টাডপার্কের রাস্তায় অনেকক্ষণ পড়েছিল তার দেহ। হাসপাতালে নেওয়ার তিন দিন পর ২০০০ সালের ১৪ জুন মৃত্যু হয় তার।
বার্লিন প্রাচীর পতনের ১১ বছর পর পূর্ব জার্মানির অংশে চরম ডানপন্থিদের হামলায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাও সেটা। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নেমেছিলেন ডেসাউয়ের রাস্তায়। ওই ঘটনায় সরব হয় জার্মানি। রাস্তা থেকে প্রতিবাদের ঢেউ উঠে ক্যাফে থেকে শিল্পীর গিটারেও। কিন্তু ওই ঘটনার দুই দশক পরেও সেখানে বর্ণবাদ আছে এখনো। ২০১৯ সালে জার্মানিতে বর্ণবৈষম্যসূচক ঘটনাগুলো নিয়ে একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বৈষম্যবিরোধী সংস্থা (এডিএস)। বর্ণবাদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত স্পষ্ট ধরা পড়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সারা দেশে ১ হাজার ১৭৬টি বর্ণবাদী আচরণ বা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেয়েছে এডিএস। ২০১৮ সালে এর শতকরা ১০ ভাগ কম অভিযোগ জমা হয়েছিল আর ২০১৫ সালে জমা পড়েছিল ঠিক অর্ধেক। বৈষম্যবিরোধী সংস্থা আমাদেউ আন্তনিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন আনেটা কাহানে মনে করেন, প্রকৃত অবস্থা তার চেয়ে অনেক ভয়াবহ। তার মতে, জার্মানিতে বর্ণবাদ এখন খুব বড় সমস্যা। আর শ্লেসভিগ-হোলস্টাইন অঞ্চলের রাজনীতিবিদ আমিনাটা ট্যরে মনে করেন, অনেক জার্মান বর্ণবাদের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে হয়তো একেবারেই অবগত নন, ‘জার্মানিতে যখনই বর্ণবাদ নিয়ে কথা বলবেন, তখনই একটা প্রশ্ন রাখা হবে জার্মানিতে কি বর্ণবাদ আছে?
শ্রোতাদের কাছে আদে বান্তু নামে পরিচিত জার্মান-নাইজেরিয়ান গায়ক আদে ওদুকোয়াও মনে করেন, জার্মান আর শ্বেতাঙ্গ এক হয়ে গেছে জার্মানিতে। তিনি বলেন, ‘আমার এমন বন্ধু আছে, যাদের প্রপিতামহ পোল্যান্ড থেকে রুটি-রুজির জন্য এখানে এসেছিলেন। তাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মকে এখন পুরোপুরি জার্মান মনে করা হয়, কেউ বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলে না। অন্যদিকে আমার আফ্রো-জার্মান তৃতীয় প্রজন্মের এমন বন্ধুও আছে, যাদের এখনো স্রেফ অভিবাসী জার্মান হিসেবেই দেখা হয়।