করোনা ভাইরাসের রেড জোন কুমিল্লা নগরীর ৪টি ওয়ার্ডে চলছে লকডাউন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে নগরীর ৩, ১০, ১২, এবং ১৩ নং ওয়ার্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে।
এতে জনসাধারনের চলাচলে কঠোরভাবে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। লকডাউনের ফলে জরুরী সেবা ব্যতীত কোন লোকজন বাসা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।
স্থানীয় সংসদ, জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নানামুখী পদক্ষের পরও কুমিল্লায় করোনায় আক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাথে মৃত্যুর সংখ্যা। এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লায় মৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের।
মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়ে যাওয়ায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের এ চারটি ওয়ার্ডকে লকডাউন করা হয়। লকডাউন করা এলাকায় বাসা বাড়িতে আবদ্ধ লোকজনের কোন কিছুর প্রয়োজন হলে হট নাম্বারে কল করলেই মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সদস্যরা ঘরে ঘরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।
করোনা ভাইরাসের ব্যপক বিস্তারের ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কুমিল্লা জেলাকে অঞ্চল ভিত্তিক রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রেড জোন খ্যাত এ জেলায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা। এতে খোদ চিকিৎসকরাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২৬৮১ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৯ জন। সম্প্রতি কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জেলা সমন্বয় কমিটির একটি সভায় নগরীর ৪টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়। গত শুক্রবার থেকে এ লকডাউন চলছে।
কুমিল্লার চারটি লকডাউন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে স্থানীয়দের উদ্যোগে লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। রেড জোনের চারটি ওয়ার্ড এলাকায় সাধারণ ছুটি কার্যকরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে রেড জোন ঘোষিত এলাকায় বসবাসরত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের রেড জোনে পুরো জেলাকে লকডাউনের জন্য মত দিয়েছেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, পরীক্ষা মূলকভাবে ৪টি ওয়ার্ডকে লকডাউন করা হয়েছে, অবস্থার অবনতি হলে লকডাউনের আওতা বাড়ানো হবে।