রাজধানীর দক্ষিণখানে হেলাল হত্যা মামলার মূল আসামি চার্লস রূপম সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। গত রবিবার রাতে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন।
আব্দুল বাতেন বলেন, হেলালের কাছে অনেক টাকা আছে ভেবে তা লুট করতে তাকে বাসায় ডেকে নেয় রূপম। যাওয়ার পর রূপম এবং তার স্ত্রী মনি সরকার হেলালকে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে হত্যা করে। এরপর গুম করতে বঁটি দিয়ে টুকরা টুকরা করে মৃতদেহের একেকটি অংশ ফেলে রেখে আসে। এ কাজে তাকে স্ত্রী মনি ও শাশুড়ি রাশেদা আক্তার সহযোগিতা করেন। ওই দুজনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর রূপমের থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বঁটি, ছুরি, বৈদ্যুতিক তার ও সাত হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৫ জুন উত্তরার দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর থানা এলাকায় হেলালের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যার রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত করে। তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভির ফুটেজ, তথ্যযুক্তি বিশ্লেষণ করে দুজন নারীকে শনাক্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ। গত ১৭ জুন রাশেদা এবং মনিকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর জোনাল টিম। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে দক্ষিণখানের জামগড়া এলাকার একটি ডোবা সংলগ্ন ডাস্টবিন থেকে হেলালের খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। বাতেন আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রূপম জানায়, হত্যার পর সে হেলালের বিকাশ এবং নগদ অ্যাকাউন্টে রক্ষিত টাকা থেকে ৪৩ হাজার টাকা উঠিয়ে নেয়। স্ত্রী মনিকে ৩০ হাজার দিয়ে পাঠিয়ে দেয় শাশুড়ির কাছে। আর নিজে লাশ বাথরুমে নিয়ে টুকরো টুকরো করে। রাতেই শপিং ব্যাগে করে মাথা রেখে দেয় ভূঁইয়া কবরস্থান সংলগ্ন ডোবার ডাস্টবিনে। পরের দিন সকালে রূপম অটোরিকশায় করে খণ্ডিতাংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়।
জানা গেছে, হেলাল একজন কোরআনে হাফেজ এবং নারায়ণগঞ্জের একটা মাদ্রাসাতে ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি দক্ষিণখান এলাকায় ফ্লেক্সিলোড, মোবাইল কার্ড ক্রয়-বিক্রয় করতেন।