করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা পৌনে ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৯২ লাখের বেশি। আর সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বেশ কয়েকটি বড় দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে। এর মধ্যে লাতিন আমেরিকায় বিশেষ করে ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলা হয়েছে। এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচওর জরুরিবিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে সংখ্যাগুলো বাড়ছে। কারণ একই সময়ে বিশ্বের অনেকগুলো জনবহুল দেশে ও বিশ্বজুড়ে মহামারীটি ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পরীক্ষা বাড়ার ভূমিকা থাকতে পারে। ভারতের মতো দেশগুলো নিশ্চিতভাবে পরীক্ষা বাড়িয়েছে। কিন্তু শুধু পরীক্ষার কারণেই এমনটি ঘটছে বলে আমরা মনে করি না।’
আর ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, ‘বিশ্বে নেতৃত্ব ও ঐক্যের অভাব মহামারীর চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। আর রাজনীতিকরণে মহামারী পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।’
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন সারা বিশ্বে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যে, করোনাভাইরাস এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৯২ লাখ ২৯ হাজার ৪২১। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ১৫৮ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৪৯ লাখ ৭১ হাজার ১১১ জন। এরই মধ্যে ইউরোপকে বিপর্যস্ত করে ভাইরাসে এখন নাকাল আমেরিকা মহাদেশ। সবচেয়ে বেশি ২৩ লাখ ৯০ হাজার ২৬৭ রোগী নিয়ে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মারা গেছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৬৮১ জন। তারপরের স্থানেই রয়েছে ব্রাজিল ১১ লাখ ১৩ হাজার ৬০৬ রোগী নিয়ে। দেশটিতে মারা গেছেন ৫১ হাজার ৪০৭ জন। দক্ষিণ এশিয়ায়ও রোগীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে।
অন্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যে মারা গেছেন ৪২ হাজার ৬৪৭ জন। দেশটিতে আক্রান্ত ৩ লাখ ৫ হাজার ২৮৯। স্পেনে মারা গেছেন ২৮ হাজার ৩২৪ জন। আক্রান্ত ২ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮৩। মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি আছে স্পেনের আগে। দেশটিতে মারা গেছেন ৩৪ হাজার ৬৫৭ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭২০ জনে। ফ্রান্সে মারা গেছেন ২৯ হাজার ৬৬৩ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৫০ জন। ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৮। মারা গেছেন ১৪ হাজার ৩০ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার ১২২ জন। মারা গেছেন ২২ হাজার ৫৮৪ জন। এছাড়া অনেক দেশেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন লাখের বেশি। রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭০৫। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৪১৮। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে মাংস প্যাকেটজাত করার একটি কারখানায় নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় জার্মানিতে আবারও লকডাউন আরোপ করা হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি। টনিজ নামে ওই মাংস প্যাকেটজাত করার কারখানার কমপক্ষে ১ হাজার ৩০০ শ্রমিক-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। নর্থ-রাইন-ওয়েস্টফারিয়া প্রদেশের গভর্নর জানান, ৩ লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার গুটেরসেøা জেলায় ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন চলবে। গত মে মাসে লকডাউন তুলে নিয়েছিল জার্মান সরকার।