ফেনীর দাগনভূঞায় নৈশপ্রহরীকে হত্যার পর পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় আরও এক ডাকাত নিহত হয়েছেন।
ফেনী জেনালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ভোরে উপজেলার বেকেরবাজারে গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ডাকাতেরা হলেন- বরগুনার দুলাল মাতব্বর (৪৫), বাবুল মোল্লা (৪০) ও নওগাঁর মো. বিদ্যুৎ (৩২)।
এছাড়া ডাকাতের হামলায় নিহত নৈশপ্রহরীর নাম আবদুল মান্নান (৪০) ওরফে মনু। তিনি আশ্রাফপুর গ্রামের নুরনবীর ছেলে। গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ডাকাতদল ফেনী-মাইজদী মহাসড়ক সংলগ্ন বাজারের শরিয়ত এন্ড ব্রাদার্সের তালা ভেঙে ট্রাকে মালামাল তুলছিল। নৈশপ্রহরী মনু ও রফিক ঘটনাটি দেখে শোরচিৎকার করে বাধা দেন। এসময় রফিক মসজিদে গিয়ে মাইকে ঘোষণা দেন। এদিকে ডাকাতরা মনুকে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
মাইকের ঘোষণায় পুলিশ ও আশপাশের লোকজন আসতে দেখে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় চারজনকে আটক করা হয়।
আটক ডাকাতদের ছিনিয়ে নিতে তাদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ডাকাতদের কয়েক রাউন্ড গোলাগুলি হয়। এতে তিন ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে দুইজন ঘটনাস্থলে মারা যান। অপরজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ অপর ডাকাতকে ফেনী জেনালের হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়।
ওসি জানান, আটক একজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, তিনটি ছোড়াসহ বিভিন্ন সরঞ্জামর উদ্ধার করেছে। ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
নৈশপ্রহরী মান্নান ও নিহত তিন ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ্ওসি জানান।