করোনা পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রীতা ও হয়রানী বন্ধ এবং পিসিআর ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ৮দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। করোনা ঝুঁকির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাসদের নেতা-কর্মীরা বরিশালে সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সদর রোড অবরোধ করে ওই কর্মসূচী পালন করে তারা।
কর্মসূচি পালনের সময় বাসদের নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় বসে পড়েন। এতে ব্যস্ততম ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ বাসদ নেতা-কর্মীদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও কোন বল প্রয়োগ করেনি। আন্দোলনকারী নেতা-কর্মীরা পুলিশের অনুরোধে সাড়া না দিয়ে একঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যায়। অবরোধ কর্মসূচিতে শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করা হয়নি।
কর্মসূচি চলাকালে জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মাত্র ১টি পিসিআর ল্যাব থাকায় এই বিভাগের মানুষের করোনার পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রীতা হচ্ছে। এতে করোনা চিকিৎসায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় করোনা সংক্রামণের হার বাড়ছে।
একই সময় মনীষা চক্রবর্তী তাদের ৮ দফা দাবি তুলে ধনে। এগুলো হচ্ছে, করোনা রোগীদের জন্য বরিশালে ১ হাজার শয্যার ব্যবস্থা করা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ, ১০০ আইসিইউ বেড স্থাপন, করোনা রোগী পরিবহনে এ্যাম্বুলেন্স চালু করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা, চিকিৎসক, পুলিশ, সাংবাদিকসহ সকল জরুরী সেবায় নিয়োজিতদের জন্য ঝুঁকিভাতা নিশ্চিত করা, এনজিও কিস্তি ও বাড়ি ভাড়া মওকুফে সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করা, ভুতুরে বিদ্যুৎ ও পানির বিল প্রত্যাহার করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা।
অনতিবিলম্বে এই ৮ দাবি বাস্তবায়ন না হলে দাবি আদায়ে প্রয়োজনে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন বাসদ নেতা ডা. মনিষা চক্রবর্তী।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা বাসদ আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। কর্মসূচী শেষে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।