করোনার প্রকৃত তথ্য গুম করছে সরকার : ফখরুল

দেশে এ পর্যন্ত করোনার ‘সঠিক চিত্র’ তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সরকার এভাবে তথ্য লুকিয়ে দেশের মানুষকে বিপদে ফেলছে। শুধু স্বাস্থ্য খাতের সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই কাজ করছে সরকার।’ গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনার প্রকৃত তথ্যও গুম করছে গুম-খুনের এ সরকার। জনমনে ধারণা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে যে, মৃত ও আক্রান্তের সঠিক চিত্র লুকিয়ে রাখছে ক্ষমতাসীনরা। এই যেমন বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে করোনা উপসর্গ নিয়ে। গত ১০ দিনের (বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত) হিসাব অনুযায়ী, ২৩ জুন সারা দেশে ১৭, ২২ জুন ১৯, ২১ জুন ১৬, ২০ জুন ১৭, ১৯ জুন ৩৪, ১৮ জুন ১৮, ১৭ জুন ১৬, ১৬ জুন ২৪, ১৫ জুন ১৭, ১৪ জুন ১৬ ও ১৩ জুন ৩০ জন মারা গেছেন জ¦র, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে যার বেশিরভাগই হিসাবে আসছে না। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সরকারি হিসাবে মারা গেছেন ৬৪ জন। কিন্তু উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৩৬০ জন। অর্থাৎ উপসর্গে মারা গেছেন পাঁচগুণ বেশি মানুষ, যার প্রমাণ এসেছে ২৩ তারিখে গণমাধ্যমগুলোতেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু হয়। তারপর ২২ জুন রাত পর্যন্ত অর্থাৎ ৫১ দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৭৪৯ জন মারা গেছেন। প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। তারপর দুই মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিট খোলা হয়নি। সে হিসাবে ঢাকায় উপসর্গ ও উপসর্গহীন মৃত্যুর বড় অংশ হিসাবের বাইরে থেকে গেছে। এর বাইরে অনেকে উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও মৃত্যুর পর তাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়নি বলেও গণমাধ্যমে নানা খবর এসেছে। সে হিসাবে ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলসহ অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে তুলনা করলে ঢাকার প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা উপসর্গ ও উপসর্গ ছাড়াই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের হার ২০ থেকে ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে ২৩ জন আক্রান্ত হচ্ছেন। ২২ জুন দেশের একটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদনেও এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইকোনমিস্টও প্রতিবেদন করেছে এ সংখ্যা নিয়ে। তারা বলছে, শুধু ঢাকাতেই আক্রান্তের সংখ্যা কমপক্ষে সাড়ে সাত লাখ; যা সরকারঘোষিত সারা দেশের আক্রান্তের সংখ্যার থেকেও সাতগুণ।’

বিএনপির করোনা সেল আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দলটির ২৮৪ নেতাকর্মী।’ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া করোনামুক্ত আছেন বলেও জানান তিনি।

এ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন সেলের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।