এখন মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ : মুমিনুল

গত অক্টোবরে টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন মুমিনুল হক। যেহেতু পাকাপাকিভাবে দায়িত্বটা পান, তাই লম্বা একটা পরিকল্পনা দাঁড় করানোর স্বপ্ন ছিল তার। ভারত ও পাকিস্তানের কাছে বাজেভাবে টেস্ট হারলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছিলেন মুমিনুল। এরপর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজগুলোতে টেস্টে নিজেদের উন্নতি দেখানোর সুযোগ ছিল মুমিনুলদের সামনে। কিন্তু করোনাভাইরাস এসে সব ভ-ুল করে দিল। সব ভেস্তে যাওয়ায় এখন এমন অবস্থা যে রাতারাতি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ বছর আর টেস্ট খেলারই সম্ভাবনা নেই মুমিনুলদের সামনে। এমন অবস্থায় কী করা? ক্রিকেটার হয়ে ঘরে বসে জিম করে আর কতদিন কাটানো যায়? উপায়ন্তর না দেখে মুমিনুল তাই একটাই পথ বের করেছেন। তা হলো মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকা। মাঠে ফেরার পর আত্মবিশ্বাস যাতে তলানিতে না থাকে সেই দিকে নজর দিচ্ছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের সময়ে ঘরে বসেই কাটছে মুমিনুলের। নিজেকে ব্যস্ত রাখতে জিম করার পাশাপাশি কোরআন পড়া, আত্মজীবনীমূলক বই পড়া এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ভিডিও দেখে কাটাচ্ছেন তিনি। মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকার ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুমিনুল বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে ব্যাট-বলের সঙ্গে সম্পর্কটা আমাদের রক্তে। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। এই সময়ে ক্রিকেটীয় মানসিকতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দুই-তিন মাস ধরে বসে থেকে সপ্তাহে ছয় দিন জিম করে কাটানো যায় কিন্তু মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকাটা কঠিন। তাছাড়া মনে রাখতে হবে এ বছর আমরা অপ্রত্যাশিত বিশ্রাম পেয়েছি কিন্তু সামনের বছর নাও পেতে পারি। তখনকার জন্য প্রস্তুত থাকতে জীবনে সফল ব্যক্তিদের জীবনী পড়া, মোটিভেশনাল বই পড়া বা ভিডিও দেখা এসব করে যেতে হবে।’

একজন টেস্ট নেতা হিসেবে টেস্ট খেলতেই চাইবেন মুমিনুল। তার ইচ্ছাকে শতভাগ পূরণ করে দিতে চলেছিল এই বছর। ২০২০-এ প্রথমবারের মতো এক বছরে ১০ টেস্ট খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু হতে যাচ্ছে উল্টো। কেবল জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি করে টেস্ট খেলা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আর নতুন সূচি না হলে এ বছরে আর টেস্ট খেলার সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে ২০২০ সালে ১০ টেস্টের জায়গায় বাংলাদেশের খেলা হলো মাত্র দুটি। ২০০০ সালে অভিষেক বছরের পর বাংলাদেশ এত কম টেস্ট খেলেছে কেবল ২০১২ ও ২০১৬ সালে।

সিরিজগুলো পিছিয়ে গেলেও সবকটিতে বাংলাদেশ নতুন সূচিতে খেলার সুযোগ পাবে, সেই নিশ্চয়তা আছে। কারণ এগুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ। অবশ্যই মাঠে গড়াবে। আগের মতো দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সিরিজ হলে পিছিয়ে কবে হতো তার ঠিক ছিল না। তবে টেস্টগুলো যে কবে হবে তার নিশ্চয়তা নেই। তবু যে খেলতে পারবেন সেটা ভেবেই খুশি মুমিনুল। জানান, ‘অবশ্যই আমি খেলাটা মিস করছি এবং খারাপও লাগছে। আর সবার মতো আমিও এ বছর অনেক পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। কিন্তু যে পরিস্থিতি এলো সেটা তো আর আমাদের হাতে নেই। আমাদের অনেকগুলো টেস্ট পিছিয়ে গেছে তবে একমাত্র আশা যে এগুলো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, তাই আবার হবে। আমরা টেস্টে উন্নতি করছিলাম। আমাদের পেস বোলিং ইউনিট ভালো এগিয়েছে। তাদের যে লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল সেই মতো তারা এগোচ্ছে। বাকি ক্রিকেটারদেরও একেকজনকে একেক রকম লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা যেন এগুলো ভুলে না যাই। ক্রিকেট মাঠে ফিরলে আবার এই লক্ষ্যের পথেই হাঁটতে হবে। তাই যেভাবে আমরা এগোচ্ছিলাম বা যা করছিলাম সেগুলোই আবার করতে হবে। সেই মানসিকতাটা রাখা চাই।’

টেস্ট সিরিজ ছাড়াও বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও সিরিজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান সফরে হওয়ার কথা ছিল এক ওয়ানডে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল তিন ওয়ানডে, চার টি-টোয়েন্টি। স্থগিত হয়েছে সব। সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ ও অক্টোবর-নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পিছিয়ে যায়নি। তবে বিশ্বকাপে এক বছর পিছিয়ে যাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। এশিয়া কাপও অনিশ্চয়তায়। এ বছর তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে আবার দেখা যায় কি না, সংশয় সেটি নিয়েই।

সংশয় থাকছে মুমিনুলদের মাঠে ফেরা নিয়েও। বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে সম্ভবত বাংলাদেশই সবচেয়ে পরে মাঠে ফেরা দলে পরিণত হতে যাচ্ছে। কারণ মিরপুর করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের ঘোষিত লাল জোনে পড়েছে। তাই সেখানে স্বাভাবিক জীবন সহসাই ফিরবে বলে মনে হয় না। তার ওপর মিরপুর স্টেডিয়ামের অনুশীলন সুবিধার সবকিছু জীবাণুমুক্ত করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করাও সময়সাপেক্ষ বলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির দাপ্তরিক কাজও এখনো স্বাভাবিক গতিতে ফেরেনি। তাই মুমিনুলদের আরও কতদিন মাঠে ফেরার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে সেটাই বড় প্রশ্ন। এমন অবস্থায় ফিটনেস ট্রেনিং করা ছাড়া উপায় নেই। তাই মানসিকভাবে নিজেকে ঠিক রাখাই মুমিনুলদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।