যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কার আনার দাবির মুখে পুলিশ সংস্কার বিল পাস করেছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘জর্জ ফ্লয়েড জাস্টিস ইন পুলিশিং অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ২৩৬-১৮১ ভোটে পাস হয়। তবে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে বিলটি আটকে দেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছেন রিপাবলিকান সদস্যরা। বিলটির বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ডেমোক্র্যাট প্রস্তাবিত বিলটির পক্ষে তিন রিপাবলিকান সদস্যও ভোট দিয়েছেন।
গত মাসে মিনিয়াপোলিস শহরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ চলছে। পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। এরই মধ্যে মিনিয়াপোলিসের পুলিশ বিভাগ ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে সিটি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। নিউ ইয়র্ক পুলিশের তহবিল কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় মেয়র বিল দে ব্লাসিও। আর পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার আনতে আইন পাসের উদ্যোগ নেয় ডেমোক্র্যাটরা। সম্প্রতি প্রতিনিধি পরিষদে এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করে তারা। বিলটির নামকরণ করা হয় ফ্লয়েডের নামে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় ভোটাভুটি।
ওই বিলে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের শরীরে এবং গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ক্যামেরা রাখা বাধ্যতামূলক করার কথা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্দেহভাজনের গলা চেপে ধরা। বিলোপ করা হবে পুলিশের অঘোষিত তল্লাশি অভিযান। স্থানীয় যেসব পুলিশ বাহিনী একই ধরনের সংস্কার আনতে অস্বীকৃতি জানাবে তাদের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বাতিল করা হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হলেও তা আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ আইনে পরিণত হওয়ার জন্য সিনেটেও বিলটি পাস হতে হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিলটিতে স্বাক্ষর করতে হবে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে বিলটি পাসের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর তারপরও যদি বিলটি দুই কক্ষে পাস হয়ও, তবে তাতে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদই পুলিশে বেশকিছু সংস্কার আনার বিষয়ে একমত। এসব সংস্কারের মধ্যে আছে, আটকের সময় যেন কোনোভাবেই শ্বাসরোধ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তা নিশ্চিত করা, পুলিশের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন, বডি ক্যামেরার বিস্তৃত ব্যবহার এবং পুলিশের হাতে নির্যাতনের নথি রাখতে একটি কেন্দ্রীয় দপ্তর খোলা। ডেমোক্র্যাট সাংসদরা এসবের বাইরেও বেশকিছু ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে দিতে চাইছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা বলছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা ‘বর্ণবাদী রাজনীতির খেলায়’ মেতেছেন। উইসকনসিনের রিপাবলিকান সাংসদ গ্লেন গ্রোথম্যান বলেন, ‘যখন শ্বেতাঙ্গরা মারা যায়, তারা এসব কথা বলে না।’
যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এর আগেও অনেকবার এ পুলিশ বাহিনীর হাতে অনেক নিরীহ মানুষ হত্যার ইতিহাস আছে। এমনকি ওই হত্যাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত অচল হওয়ার মতো উদাহরণও রয়েছে। কিন্তু পুলিশি ব্যবস্থা রয়েই গেছে। আর এর কারণ দেশটির বিচারব্যবস্থা পেছন থেকে পুলিশি কাঠামোকে সমর্থন করে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের মতো জায়গাতেও পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে শুরুতেই নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়। ফলে দিনের পর দিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ কাঠামোতে নীরবে পুলিশি রাজত্ব তৈরি হয়েছে, যার পরিমাণ জর্জ ফ্লয়েডের মতো বহু মানুষের মৃত্যু।