নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও কুমিল্লায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমানো যাচ্ছে না। ভাইরাসটি এখন কুমিল্লা নগরসহ ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। আক্রান্তদের মধ্য থেকে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। এর বাইরে উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে।
এমন অবস্থায় ভয়, আতঙ্ক ও শঙ্কায় দিন পার করছেন কুমিল্লাবাসী। নগর এবং শহরের বাইরে থাকা গ্রামের মানুষরা বলছেন করোনারোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আক্রান্ত হয়ে উপসর্গ নিয়েই মারা যাচ্ছেন অনেকে। করোনা পরীক্ষা বা দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থাই নেই প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে।
কুমিল্লা জেলায় ১৭টি উপজেলা ১৮টি থানা। জেলার জনসংখ্যা প্রায় ৫৬ লাখ। এ জনগোষ্ঠীর বিশাল একটি অংশ গ্রামে বাস করে। করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার পর্যন্ত কুমিল্লায় করোনাভাইরাসে সর্বমোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮১০ আর মারা গেছেন ৯১ জন। হোম আইসোলেশনে থাকা ১৪০ জন সুস্থ হয়েছেন।
উপজেলাওয়ারী আক্রান্তের মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ৬৭০, দেবীদ্বারে ২৮৫, মুরাদনগরে ২১৪, চান্দিনায় ১৭০, লাকসামে ১৭৪, চৌদ্দগ্রামে ২০৭, বুড়িচংয়ে ১৪৩, নাঙ্গলকোটে ১২৯, আদর্শ সদরে ১১২, দাউদকান্দিতে ১১৫, সদর দক্ষিণে ৭০, তিতাসে ৭১, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৫১, বরুড়ায় ৮৪, মনোহরগঞ্জে ৭৩, হোমনায় ৬৯, মেঘনায় ২৫, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ২০ ও লালমাইয়ে ৩৩ জন।
গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবার বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মুজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ৫০ শয্যা রয়েছে এমন হাসপাতালগুলো করোনা আক্রান্ত ও অন্যান্যা রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য। তিনি জানান, ভাইরাস থেকে কুমিল্লা জেলাকে বাঁচাতে হলে বৃহৎ আকারে লকডাউন প্রয়োজন।
কুমিল্লা ডেপুটি সিভিল সার্জন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, সাধারণ জ¦র, কাশি নিয়ে যারা আসছেন তাদের বাসায় থেকে হটলাইনে কল দিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লার নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ জানান, আংশিক নয়, সংক্রমণ রোধে পুরোপুরি লকডাউন প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।