শিশুদের মাদ্রাসার বাবুর্চি ছিলেন এক সময়। সে সুবাদে ভালোভাবে পড়তে পারেন শিশুদের মন। মুহূর্তে তাদের ভুলিয়ে দিতে পারেন। তারপর কৌশলে অপহরণের পর আদায় করতেন মুক্তিপণ।
বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় মোবাইলে গেম ও ঘুরে বেড়ানোর লোভ দেখিয়ে একের পর এক শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে সবাইকে অবাক করে দেন রনি। আগে থেকে শিশুর বাড়ির তথ্য ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহে রাখতেন তিনি। কৌশলে অপহরণের পর বিকাশ বা রকেটে মাধ্যমে চাদা চাইতেন। এ সময় শিশুদের কোনো ক্ষতি তিনি করতেন না। দাবি করা টাকার অনেক কম দিলেও নিরাপদে শিশুদের আবার বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন। আর এসব কাজ করে আসছিলেন তিনি একাই।
শনিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে এমন অপহরণ ঘটনার বর্ণনা দিলেন নেত্রকোনা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) ওসি মো. শাহ্ নুর এ আলম।
তিনি জানান, চলতি মাসে নেত্রকোনা মডেল থানায় ১৮ ও ২৪ তারিখ দু’টি পৃথক জিডি হয়। ২৪ তারিখের জিডির সূত্র ধরে শুক্রবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অপহরণকারী আব্দুল্লাহ খান রনিকে (২৫) ময়মনসিংহ জেলা শহরের গুদারাঘাট এলাকা থেকে আটক করে ডিবি। আটক যুবক নেত্রকোনা শহরের কুড়পাড় এলাকার মৃত রিয়াজ উদ্দিন খানের ছেলে।
তিনি জানান, শিশুদের মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করার সুবাদে শিশুদের সহজে বশে আনার মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে সার্বিক ধারণা রয়েছে এই অপহরণকারীর।
পুলিশ জানায়, অপহরণকারীর যুবকের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৮ ধারায় নেত্রকোনা শহরের বনোয়াপাড়া এলাকায় অপহৃত শিশু ওমর ফারুকের ভাই আলমগীর বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে শনিবার বিকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সেখানে অপহারণকারী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সর্বশেষ ২৪ জুন জিডি করেন নেত্রকোনার সদর উপজেলার বনোয়াপাড়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তাদের বাড়ির সামনে থেকে তার ১২ বছর বয়সী ছোটভাই ওমর ফারুক নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে বিকাশে বা রকেটে টাকা পাঠাতে তাদের বাড়ির মোবাইলে ফোন আসে। প্রথমে দুই লাখ টাকা দাবি করলেও পরে নয় হাজার টাকা পাঠাতেই শিশুটিকে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা-নেত্রকোনা সড়কের শাহজালাল পরিবহনে উঠিয়ে দেওয়া হয়।
পরে শিশুর বিবরণ অনুযায়ী অপহরণকারীকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহ থেকে আটক করে ডিবি।