নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে নিজের গলফ রিসোর্টে যাওয়া বাতিল করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিতের জন্য ওয়াশিংটনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার তার ছুটির দিন কাটানোর কথা ছিল। তা না করে সেদিন এক টুইট বার্তায় তিনি লেখেন ‘অগ্নিসংযোগকারী, নৈরাজ্যবাদী, লুটেরা ও আন্দোলনকারীদের কর্মকা- ব্যাপকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের জনগণকে সুরক্ষায় যা প্রয়োজন আমি তাই করছি এবং ওই ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’ এর আগের সপ্তাহে তিনি আরিজোনায় গিয়েছিলেন নির্বাচনী প্রচারে। যদিও সেই প্রচারে আশানুরূপ মানুষ তো দূরের কথা, বসার আসনগুলোর অধিকাংশই ফাঁকা ছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে যে বা যারা ধ্বংস বা ভাঙচুর করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। গত শুক্রবার তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর আরও কঠোর হওয়ার নির্বাহী আদেশ দেন। ২০০৩ সালে পাস হওয়া মেমোরিয়াল প্রিজারভেশন আইনের আওতায় স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস বা এর উদ্যোগ নিলে দশ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ওই আইনকেই কার্যকর করতে চাইছেন।
ন্যাশনাল গার্ডের শতাধিক নিরস্ত্র সেনা ওয়াশিংটন ডিসির স্মৃতিস্তম্ভগুলো রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিচ্ছে। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউজের নিকটবর্তী পার্কে স্থাপন করা সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলতে উদ্যত হয়। মূলত ওই ঘটনার পরই ট্রাম্পকে কঠোর হতে দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের সামনে এমন এক সময় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন চলে এসেছে যখন তার নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকার কথা।
একদিকে করোনাভাইরাস ও অন্যদিকে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে বেশ কয়েকটি প্রচারণা ইতিমধ্যে বাতিল করতে হয়েছে ট্রাম্পকে। যদিও তার প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনকে তা করতে হয়নি। এমনকি নিজের রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের মধ্যেও ট্রাম্পকে প্রচারণায় সাহায্য করতে দেখা যাচ্ছে না। উল্টো অনেক রিপাবলিকান নেতাই ডেমোক্র্যাট শিবিরে নাম লেখাতে পারেন এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্রমশ ট্রাম্প একা হয়ে পড়ছেন হোয়াইট হাউজে এমনটাই বলছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রেসিডেন্টের পাশে এখন যারা আছেন তারা যতটা রাজনীতির মাঠের মানুষ তারচেয়েও বেশি সেনাবাহিনীর। ফলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তে জোর প্রয়োগের নীতিই অধিক প্রতিফলিত হবে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।