বর্ষার শুরুতেই পদ্মার ভাঙন

অস্তিত্ব হারাতে বসেছে দোহারের মৈনট ঘাট

ঢাকার দোহারের পদ্মার পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে খ্যাত মৈনট ঘাটে বিভিন্ন উৎসবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীশূন্য এ ঘাট। তার ওপর পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে ঘাটটি। প্রতি বছর নদীভাঙনের ফলে অস্তিত্ব হারাতে বসা ঘাট এলাকায় এবার ভাঙন শুরু হয়েছে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই।

স্থানীয়রা জানান, দোহারের অন্যতম আকর্ষণীয় এই অঞ্চলটির ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে অতি দ্রুতই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে ঘাটসহ এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম। নদীপাড়ের মানুষদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেলে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারাবেন তারা। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিলে রক্ষা পাবে মিনি কক্সবাজার, রক্ষা পাবে নদীপাড়ের অসহায় মানুষের বাড়িঘর।

স্থানীয়রা আরও জানান, বছর কয়েক আগেও আয়তনে বিশাল ছিল এই মৈনট ঘাট। প্রতি বছর অল্প অল্প করে ভাঙতে ভাঙতে আজ আমরা হারাতে বসেছি দর্শনীয় স্থানটি। প্রতি বছরই ভাঙন শুরু হলে আমরা শুনি নদীর পাড় বাঁধার কাজ শুরু হবে, কিন্তু আজ পর্যন্ত মৈনট ঘাট রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো কাজ করা হয়নি। প্রতি বছর শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় আমাদের, আজ পর্যন্ত কোনো ফল পাইনি আমরা। দিন যতই যাচ্ছে ততই বিপদ বাড়ছে আমাদের।

ঘাটের রেস্টুরেন্ট ও দোকান ব্যবসায়ীরা জানান, নদীভাঙন ও বর্ষার কারণে প্রতি বছর অন্তত দুইবার দোকান ভেঙে সরাতে হয়। আর দোকান সরাতে ব্যয় হয় অতিরিক্ত টাকা। নষ্ট হয় দোকানের আসবাবপত্র। এতে আমরা সারা বছর যা আয় করি তা দোকান মেরামতে ও আসবাবপত্র কিনতে খরচ হয়ে যায়।

ঘাট ইজারাদার জানান, নদীভাঙনের কারণে প্রতি বছর অনেক লোকসান গুনতে হয় তাদের। নদীভাঙনের জন্য দিন দিন পর্যটকও কমে যাচ্ছে।

দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। তারা খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক জানান, মৈনট ঘাটের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা নদীতে ভেঙে গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।