ইউনানি থেকে পড়াশোনা করেছেন। চিকিৎসা করেন হৃদরোগ, লিভার, জন্ডিস ও বাতজ্বরের মতো কঠিন সব রোগের। তাও আবার অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা। করেন হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারও। মিজানুর রহমান নামে ওই চিকিৎসক রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এভাবে প্রতারণামূলকভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার।
ইউনানির সনদ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা দেওয়ার দায়ে মিজানুর রহমানকে গতকাল রবিবার র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালটির সহকারী পরিচালককে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে অপারেশন থিয়েটারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনহীন ইনজেকশন ও সার্জিক্যাল পণ্য রাখার দায়ে ওই হাসপাতালের ফার্মেসিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল দুপুর ১২টা থেকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসক ও হাসপাতালে অনিয়মের খোঁজে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র্যাব-৩। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাহিনীটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু।
ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিজানুর রহমান ইউনানি প্র্যাকটিশনার বা হেকিম। কিন্তু তার কাছে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, পিএইচডিসহ নানান সার্টিফিকেট আছে। তার পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি ইউনানি পড়ে অ্যালোপ্যাথির মেডিসিন প্রেসক্রাইব করতেন। তিনি অ্যালোপ্যাথির চিকিৎসা এবং ডাক্তার পরিচয় দিতে পারেন না। যেহেতু তিনি ইউনানি সনদধারী, সেহেতু তিনি হেকিম পরিচয় দিতে পারেন। কিন্তু তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতো রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতেন। এ জন্য তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সহকারী সুপার হাসিনুর রহমানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’