এবার সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষা করাতে হলেও ফি দিতে হবে মানুষকে। দেশের যেকোনো সরকারি হাসপাতাল বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত বুথে নমুনা পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করেছে সরকার। এখন থেকে বুথে গিয়ে নমুনা দিয়ে পরীক্ষা করানোর জন্য ২০০ টাকা লাগবে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্যও লাগবে একই পরিমাণ টাকা। তবে সরকারি উদ্যোগে বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানোর জন্য দিতে হবে ৫০০ টাকা। গতকাল সোমবার সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
এত দিন সরকারিভাবে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছিল। অবশ্য বেসরকারি হাসপাতালে আগে থেকেই পরীক্ষার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আর বেসরকারিভাবে বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য লাগছে সাড়ে চার হাজার টাকা। ফলে দেশে বিনামূল্যে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা বন্ধ হলো।
এমন একসময়ে সরকার করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করল, যখন দেশে রোগটির সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং বিশেষজ্ঞরা কমপক্ষে দিনে ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন। অথচ গতকালও এক দিনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৪ জন করোনায় শনাক্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে সংক্রমণের হার অনুপাতে দেশে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা অনেক কম। বাংলাদেশ পৃথিবীর সর্বোচ্চ আক্রান্ত ২০ দেশের মধ্যে ১৭ নম্বরে উঠে গেলেও পরীক্ষায় সর্বনিম্ন থেকে ২ নম্বরে রয়েছে। বাংলাদেশের চেয়ে কম পরীক্ষা হচ্ছে কেবল মেক্সিকোয়।
এমনকি করোনা পরীক্ষা নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। এখনো দেশের ৪৪ জেলায় পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবরেটরি নেই। সারা দেশে মোট ৬৮টি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৬টি ঢাকায়। বাকি ৩২টি ঢাকার বাইরে ১৯ জেলায়। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ছয়টি এবং নোয়াখালী, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে দুটি করে ল্যাব রয়েছে। বাকি ৪৪ জেলার কোনোটিতেই এখনো ল্যাবরেটরি চালু হয়নি করোনা পরীক্ষার জন্য। ফলে এসব জেলার মানুষকে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। পাশাপাশি যারা নমুনা দিচ্ছে, তাদের ফল আসতেও সময় লাগছে ৭-১০ দিন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৪ দিনও লাগছে। অথচ করোনা পরীক্ষার ফল ছাড়া কোনো হাসপাতালেই করোনা রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। আবার যারা ভর্তি হচ্ছে, তারাও সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। ফলে বর্তমানে ৮০ শতাংশের বেশি রোগী এখন বাসায় থেকে নিজ খরচে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এমন অবস্থায় সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ করায় বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা ‘কিছুতেই সরকারের ফি নির্ধারণ করা উচিত হয়নি’ বলে মত দিয়েছেন। এর ফলে পরীক্ষার সংখ্যা কমবে। আক্রান্তরা শনাক্ত হবে না। সংক্রমণ বাড়বে। বিশেষ করে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির কোনো পরামর্শ ছাড়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভীষণ ক্ষুব্ধ কমিটির বিশেষজ্ঞরাও। তারা সরকারের এ সিদ্ধান্ত পরিহার করে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এটা একটা বাধা। সরকার পয়সা নিয়ে পরীক্ষার জন্য নমুনার সংখ্যা কমে যাবে। কারণ যারা পয়সা দিতে পারবে না, তারা পরীক্ষা করবে না। এমনিতেই বিনামূল্যে পরীক্ষা করানোর পরও আমাদের দেশের সরকারি ল্যাবগুলোতে এখন পর্যন্ত টেস্ট করানোর হার লাখে এক শরও কম। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেপালে জনসংখ্যা অনুপাতে টেস্টের হার আমাদের তুলনায় অনেক বেশি।
একইভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংক্রমণ কমিয়ে ও নিয়ন্ত্রণ করে জাতিকে যদি করোনা থেকে উদ্ধার করতে হয়, তাহলে করোনা টেস্ট থেকে শুরু করে করোনা রোগীদের চিকিৎস সম্পূর্ণভাবে ফ্রি করে দেওয়া উচিত। জনগণকে হাসপাতালে আসতে উৎসাহিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে হবে।
করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দুই কারণ দেখিয়েছেন। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। সরকারের আয় কমে গেছে। প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার পেছনে যে টাকা খরচ হয়, সেটা দীর্ঘ মেয়াদে সংকুলান করা সম্ভব নয়। দেশে যে হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। এ জন্য সরকার একটি ফি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ হলো, নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে এর অপব্যবহার হচ্ছে। অনেকের শরীরে করোনার উপসর্গ না থাকলেও সন্দেহ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করাচ্ছে। সন্দেহ হলে পরীক্ষা নিরুৎসাহ করার জন্যও সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আমদানি করা প্রতিটি কিটের দাম পড়ছে তিন হাজার টাকা। যদি বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে একটি পরীক্ষার পেছনে সরকারের মোট খরচ পড়ে যায় পাঁচ হাজার টাকার মতো। প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে শনাক্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার। বাকিদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে না। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা অপচয় হয়। সে জন্য যাদের শরীরে করোনার উপসর্গ আছে এবং কেউ যদি মনে করে করোনার উপসর্গ থাকার আশঙ্কা প্রবল সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি নমুনা পরীক্ষা করাতে যাবে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা পরীক্ষায় ব্যয়ের প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানান, পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে এখনো তাদের নাগরিকদের বিনামূল্যেই করোনার নমুনা পরীক্ষা করে যাচ্ছে। ভারতে সরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবে করোনা পরীক্ষায় কোনো টাকা নেওয়া হয় না। বেসরকারিভাবে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়। ইউরোপের দেশগুলোতে যেহেতু স্বাস্থ্যবীমা করা থাকে, সে জন্য টেস্টের ব্যয় সরকার নির্বাহ করে।
অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার খরচ কমানোর যে কারণ দেখাচ্ছে, এই ২০০-৫০০ টাকা ফি নিয়ে খুব বেশি খরচ কমাতে পারবে না। কারণ সরকারের খরচ হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। এর ফলে যেটা হবে যারা এই ২০০-৫০০ টাকা দিতে পারবে না, তারা তো টেস্ট করবে না। এখন থেকে যে সব স্যাম্পল সংগ্রহ হচ্ছে, সেটাকে আমরা বলছি সর্বজনীন সংক্রমণের হার। কিন্তু পয়সা নেওয়া শুরু হলে সর্বজনীন স্যাম্পল হলো না। যারা পয়সা দিতে পারবে, কেবল তাদেরই শনাক্তের হার হবে। অন্যদের সংক্রমণের হার জানা যাবে না। জনসংখ্যা অনুপাতে আমরা যদি শনাক্তের হার বের করতে চাই, তাহলে সবার পরীক্ষা করতে হবে। পয়সা নিয়ে করা পরীক্ষায় সংক্রমণের সঠিক তথ্য আসবে না। করোনার তথ্যে গরমিল হবে। করোনা সংক্রমণের হার জানার জন্য বেশি বেশি টেস্ট খুবই দরকার। আর এটা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব। জনগণ নিজের টাকা খরচ করে সরকারকে তথ্য দেবে সেটা ঠিক নয়। টেস্ট করানোর জন্য ফি নির্ধারণ সরকারের চিন্তা ও পরিকল্পনার দৈন্য।
ফি নির্ধারণের ব্যাপারে জাতীয় কারিগরি কমিটির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বা কমিটি এ ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করেনি বলে জানান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ধরনের সুপারিশ আমাদের কমিটি থেকেই যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা কিছু জানি না। এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করেছে।
অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত জনগণকে পরীক্ষা করতে নিরুৎসাহিত করবে। যদি টেস্ট করাতে নিরুৎসাহিত করা হয়, তাহলে সংক্রমণ বাড়বে। বরং পরীক্ষা ফ্রি করে সরকারের উচিত জনগণকে টেস্ট করার জন্য উৎসাহিত করা এবং টেস্টের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
এই বিশেষজ্ঞ সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা ফ্রি করার জন্য দাবি জানান এবং পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট পরীক্ষা হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দিয়ে পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে আনার সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, এটা করব যাতে আরও মানুষ পরীক্ষা করে এবং আমরা সংক্রমিত রোগীদের শনাক্ত করতে পারি।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বেসরকারিভাবে বেশি টাকায় যে টেস্ট, এটা সাধারণ মানুষ করতে পারে না। অনেককেই পরীক্ষায় নিরুৎসাহিত করে। এখন যদি আবার সরকারি টেস্টের জন্যও পয়সা দিতে হয়, তা হলে আরও নিরুৎসাহিত করবে। এতে টেস্টের সংখ্যা কমে যাবে। যারা সংক্রমিত তাদের আমরা শনাক্ত করতে পারব না। এর পরিণতি হবে সংক্রমণ বাড়তে থাকবে এবং আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর ঝুঁকি বাড়বে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শক এবং সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা ভালো হলো না। বিনামূল্যে সরকারি পরীক্ষার সুযোগ যদি কেউ অপব্যবহার করে থাকে, ফি নির্ধারণ করে সেসব প্রভাবশালীকে ঠেকানো যাবে না। এমনিতেই প্রান্তিক মানুষ নানা ধরনের কষ্টে আছে। এখন ফি নির্ধারণ তাদের জন্য আরও দুরূহ হয়ে গেল। মহামারীর সময় এটা খুবই অনুচিত। মহামারীর সময় জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে সরকারের। এটা একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব। এখানে টাকা দিয়ে প্রান্তিক মানুষকে আটকানো, খুবই অনুচিত হয়েছে। এতে করোনা চিকিৎসায় মানুষের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
সরকার পরীক্ষায় সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের কথা বলেছেÑ জানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকারের তিন হাজার টাকার খরচ ২০০-৫০০ টাকায় কীভাবে পূরণ হবে? এটা খোঁড়া যুক্তি। এমনিতেই সাধারণ মানুষ সামাজিক নিগৃহের ভয়ে লক্ষণ থাকলেও প্রকাশ করতে চায় না। তারপর তাদের জীবন-জীবিকার পেছনে ছুটতে হয়। তারা একটা প্যারাসিটামল খেয়ে কাজে যায়, যাতে জ্বর মাপলে জ্বরটা ধরা না পড়ে। তারপর যদি পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়, তাহলে তো গণহারে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাবে।
এ ব্যাপারে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শারমিন ইয়াসমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, হঠাৎ করেই তারা সিদ্ধান্ত নিল। না। এ রকম জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত আসলে নেওয়া উচিত নয়। যেহেতু আমরা এখন করোনার ‘পিক’র দিকে যাচ্ছি, এখন তো অনেক রোগী আক্রান্ত হবে, কাজেই এ সময় এ রকম সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। এ সময় জনগণের ওপর এই জিনিসটা চাপানো ঠিক হয়নি। কারণ মানুষ এখন এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর। অর্থনৈতিকভাবে সচল নয়। বেসরকারি হাসপাতালে যারা যায়, তারা কিছুটা অবস্থাপন্ন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে যারা যায়, চিকিৎসার বাইরেও তাদের অনেক খরচ। তার ওপর যদি টেস্টের দায়িত্বও সরকার না নিয়ে তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, এটা খুব অমানবিক হয়েছে। হুট করে এটা করা উচিত হয়নি।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, টেস্টের ফি নির্ধারণের ব্যাপারে সরকারের আগাম জানান দেওয়া উচিত ছিল। জনস্বাস্থ্যবিদ সংশ্লিষ্টদের মতামতকে গ্রাহ্য করা উচিত ছিল। তা ছাড়া টেস্টের স্টের জন্য পয়সা নেওয়ার পর তারা কি দুদিনে রিপোর্ট দেবে? আগে রিপোর্ট পেতে তিন-চার দিন লাগত। এখন তো ১০-১২ দিনেও রিপোর্ট পাওয়া যায় না। টাকা নিয়ে সেবার মান উন্নয়ন হবে? সেখানেও তো আমরা কোনো ভরসা পাচ্ছি না।
পরিপত্রে আরও যা বলা হয়েছে : স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ড. নার্গিস বেগম স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়, সব সরকারি হাসপাতালে ‘খুব শিগগির’ এ নির্দেশনা কার্যকর করা হবে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, কভিড-১৯ শনাক্তে আরটিপিসিআর টেস্ট বর্তমানে বিনামূল্যে করছে সরকার। এ কারণে ‘কোনো উপসর্গ ছাড়াই অধিকাংশ মানুষ’ এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ নিচ্ছে। এ অবস্থায় কভিড-১৯-এর নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নিমিত্তে অপ্রয়োজনীয় কভিড-১৯ টেস্ট পরিহার করার লক্ষ্যে পরীক্ষার জন্য এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফি বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সব সুযোগ-সুবিধা এবং মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ ও গরিব রোগীদের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত আগের সরকারি আদেশ বহাল থাকবে।