লাশের সারি দেখে জয়া আহসানের প্রশ্ন— মানুষের জীবনকে কি আমরা এতটাই মূল্যহীন করে ফেললাম?
বুড়িগঙ্গায় সোমবার সকালে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৩৩ জনের মৃত্যুকে ঘিরে তার এই প্রশ্ন। সঙ্গে সাম্প্রতিক দুর্যোগের কথা তুললেন ঢাকা-কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার জেতা জয়া মঙ্গলবার দুপুরে ফেইসবুকে লেখেন, “বুড়িগঙ্গায় আবার লঞ্চ ডুবেছে। নদীতে ডুবে কী অসহায়ভাবে কতগুলো মানুষ অকাতরে প্রাণ হারাল। প্রত্যেকটা মানুষের আলাদা জীবন। প্রত্যেকের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে আরও কত কত মানুষের জীবন। আহা, নদীর তলায় কত স্বপ্নের জীবন্ত সমাধি হলো!
খবরে পড়ছি, করোনার মহামারীর আঘাতে বাংলাদেশে আরও ৩ কোটি মানুষ নতুন করে গরিব হবে। হতদরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষ চোখে অন্ধকার দেখছে। এর মধ্যেই এল আম্পানের তাণ্ডব। তারপর নৌকাডুবি। বড় দুর্যোগে পর্যুদস্ত মানুষের ওপর ঢেউয়ের মতো একটার পর একটা আরও দুর্যোগ আসছেই।”
আরও লেখেন, “বুড়িগঙ্গায় নৌকাডুবির একেকজনের খবর পড়ছি, আর চোখ অশ্রুতে ভরে আসছে। এক যুবক একা বেঁচে আছে, মৃত্যু হয়েছে পরিবারের আর সবার। প্রত্যেকটা ঘটনা এত কষ্টের যে পড়াও যায় না।
মানুষের জীবনকে কি আমরা এতটাই মূল্যহীন করে ফেললাম?”
রাজধানীর শ্যামবাজারসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ রুটের এমভি মর্নিং বার্ড নামে দোতলা লঞ্চটি ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ লঞ্চটির ধাক্কায় ডুবে যায়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
লঞ্চডুবির পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ৮০ জন ধারণক্ষমতার ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তারা। লঞ্চডুবির পর যাত্রীদের মধ্যে কজন সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন সেটিও নিশ্চিত না হওয়ায় এখনো ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।