এই দিনে

নাট্যকার, নাট্যসংগঠক ও অভিনেতা অমৃতলাল বসুর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে ১৮৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল। তিনি কলকাতার জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন থেকে ১৮৬৯ সালে এন্ট্রান্স পাস করে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। দুই বছর ডাক্তারি পড়ার পর কাশী গিয়ে তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতি শিক্ষা করেন এবং কলকাতায় কিছুদিন এর চর্চাও করেন। কিছুকাল স্কুলে শিক্ষকতা, পোর্টব্লেয়ারে সরকারি চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন এবং পুলিশ বিভাগে চাকরি করেন। থিয়েটারের প্রতি আকর্ষণহেতু কোনো পেশায় স্থায়ী হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি নাটক রচনা ও অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন। কালক্রমে একজন অভিনেতা, মঞ্চাধ্যক্ষ, নাটক ও গান রচয়িতা হিসেবে দেশজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন। ১৮৭২ সালে ন্যাশনাল থিয়েটারে মঞ্চস্থ ‘নীলদর্পণ’ নাটকে সৈরিন্ধ্রীর ভূমিকায় প্রথম অভিনয়ে অবতীর্ণ হন। পর্যায়ক্রমে গিরিশচন্দ্র ঘোষের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা হয়। ১৮৭৫ সালে তিনি গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারের ম্যানেজার নিযুক্ত হন। প্রিন্স অব ওয়েলসের কলকাতায় আগমন ও জনৈক রাজভক্তের চাটুকারিতাকে ব্যঙ্গ করে লেখা গজদানগদ ও যুবরাজ প্রহসনে অভিনয়ের কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ১৮৮৮ সালে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি স্টার থিয়েটারে যোগ দেন। তার রচিত নাটক, প্রহসন ও নকশাজাতীয় গ্রন্থের সংখ্যা ৪০। তিনি শ্যামবাজার অ্যাংলো-ভার্নাকুলার স্কুলের সেক্রেটারি, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি এবং কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির সভ্য ছিলেন। জগত্তারিণী পদকসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১৯২৯ সালের ২ জুলাই তিনি মারা যান।