মেঘনায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পুরুষশূন্য শতাধিক পরিবার

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার পুরান বাটেরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গত শনিবার (২৭ জুন) শাজাহান ও সুরুজ গ্রুপের ওই সংঘর্ষের পর থেকে  পুরুষ শূন্য পড়েছে গ্রামটি। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ ছাড়া কাউকেই পাওয়া যায়নি এলাকায়। পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে এবং ফের হামলার আশঙ্কায় পুরুষেরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার(হোমনা সার্কেল) মো. ফজলুল করিম সোমবার (২৯ জুন) গ্রামটি পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে লুটেরচর ইউনিয়নের পুরান বাটেরা গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বাড়িগুলোতে হামলার চিহ্ন স্পষ্ট। বেশির ভাগ বাড়ির বেড়া(চৌকাট) দরজা, জানালা ভাঙা। কোনো কোনো বাড়ির আসবাবপত্রও ভাঙা।

গ্রামবাসী জানান, দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে আতঙ্কের জনপদ পুরান ভাটেরা গ্রামে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রামে এখন পুরুষরা থাকছেন না।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে জড়ো হওয়া (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ভূক্তভোগী নারীরা জানান, সংঘর্ষের ভয়ে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো গ্রামটিতে।  হামলার পর থেকে আমাদের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। আমরা  বাড়িঘরে বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। আবার লুট হওয়ার ভয়ে আমাদের গবাদি পশু (গরু ছাগল) আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রেখে আসছি।

শাজাহান মিয়া বলেন, সুরুজ ও ডালিমের লোকজনের ভয়ে আমরা বাড়ীতে যাইতে পারি না। মামলা করে কি হবে। এর আগে হামলার ঘটনায় মামলা করায় আবার হামলার শিকার হয়ে এখন বাড়িছাড়া।

এদিকে সুরুজ মিয়া আহত ভাইকে নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে আছেন। তিনি ফোনে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে নারাজ।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুল করিম জানান, পুরান বাটেরার দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গ্রামবাসীর শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশের একাধিক দল টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত আছে। গ্রামে পুরুষ শূন্যের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মেঘনা উপজেলার দ্বীপ গ্রাম পুরান বাটেরায় গত ২৭ জুন দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও টেটা যুদ্ধ হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের টেটাবিদ্ধসহ আহত হয় কমপক্ষে ১৫জন।