নওগাঁ-মহাদেবপুর সড়কে আলী হোসেনের (৫০) চলাচলটা ছিল বহু বছর ধরে। বলা চলে এ পথ ধরেই চলছেন গত ২০ বছর। চলতে গিয়ে কোনো দিন মহাদেবপুর বকের মোড়ে দাঁড়িয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারেননি। কারণ রাস্তা দখল করে বসানো হতো ধানের হাট।
দীর্ঘ বছর পর সেই বাজার দখলমুক্ত করায় এখন স্বস্তি পাচ্ছেন আলী হোসেন। একদিকে যেমন তার গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় কম লাগছে তেমনি নির্বিঘ্নে এ পথে চলতে পেরে দারুন খুশি তিনি। শুধু তিনি নন তার মতো এ পথ ধরে চলাচলকারী সবাই আজ খুশি।
স্থানীয়রা জানান, নওগাঁর মহাদেবপুর একটি প্রসিদ্ধ বাজার হলেও এই বাজারের বকের মোড়, মাছের মোড়ে ধানের হাটের কারণে মানুষের ভোগান্তি ছিল নাভিশ্বাস তোলার মতো। অবৈধ দখলের কারণে সবাই এক প্রকার জিম্মিই ছিলেন। সেই জিম্মিদশা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে উদোগ নেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান। তার চেষ্টায় শত বাধা উপেক্ষা করে সেই পথটিকে সবার জন্য করেছেন উন্মুক্ত।
পথচারী ইমরান হোসেন বলেন, আগে প্রতি বুধবার বকের মোড়ে রাস্তা দখল করে ধানের হাট বসত এখন এই ইউএনওর জন্য এখানে আর ধানের হাট বসে না। হাট অন্য স্থানে বসার কারণে আমরা এখন এই পথ দিয়ে স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারছি।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহাদেবপুরবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল ধানের হাটটা যেন বাজার থেকে সরিয়ে অন্যত্র নেয়া হয়। ধানের হাটের কারণে মহাদেবপুর মাছের মোড় এবং বকের মোড়ে প্রচণ্ড জ্যাম হয়। পরে চালকল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে বাজারে জ্যাম কমানোর উদ্দেশ্যে ধানের হাটটি সাময়িকভাবে উপজেলা পরিষদের বাম পাশে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে ধানের হাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে।