বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার তার নাগরিকদের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে কি-না তা যাচাইয়ে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করছে। কিছু দেশ তথাকথিত ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’র প্রচলনও করেছে এবং অন্য দেশগুলো তা অনুসরণ করার চেষ্টা করছে ইতিমধ্যেই। এই পাসপোর্ট নিশ্চিত করে যে, পাসপোর্টধারী ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি তিনি আর কখনো কোনো আক্রান্তের সংস্পর্শে আসবেন না এমন প্রতিশ্রুতিও নিহিত থাকে ওই পাসপোর্টে। আর যার কাছে এই পাসপোর্ট থাকবে তিনি লকডাউনের আওতার মধ্যে থাকবেন না।
কিন্তু বিশ্লেষকরা এই পাসপোর্টের বিশেষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এই পাসপোর্ট মানুষের মধ্যে বিভাজন বাড়াবে। একদল ব্যক্তি যাদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি আছে তারা যেকোনো জায়গায় যেতে পারবেন, ভ্রমণ করতে পারবেন এবং সবচেয়ে বড় কথা যা ইচ্ছে তাই করতে পারবেন। একই দেশের মধ্যে এই পাসপোর্টের প্রক্রিয়া আসলে অ্যান্টিবডি এলিট শ্রেণির জন্ম দেবে বলে ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
অ্যাবারডেনের বাসিন্দা পাম ইভান্স। ইন্টারনেটে এক পুরুষের সঙ্গে তার বেশ কিছুদিন আগে পরিচয় হয়েছে। তার মতে, ‘সপ্তাহ শেষে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার কথা আছে। গত সপ্তাহেই করোনা পরীক্ষায় আমার নেগেটিভ এসেছে, ফলে আমার সঙ্গে মিলিত হতেই পারে।’ কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, পামের সঙ্গে যে পুরুষটির পরিচয় হয়েছে অনলাইনে, তিনি যে লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বের হতে পামকে ব্যবহার করছেন না, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সমাজে অনেকেই ইমিউটিনি পাসপোর্টধারী ব্যক্তিদের সুবিধার সুযোগ নিচ্ছেন। নিউইয়র্কের মতো শহরে মানুষ অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফলকে বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করছেন। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ যখন তাদের নিরাপদ স্থানে থাকতে আহ্বান জানাচ্ছে, তখন তারা ওই পরীক্ষার ফল দেখিয়ে বলছেন যে, তাদের করোনার সংক্রমণ হয়েছিল, তবে তারা এখন সুস্থ হয়ে গেছেন।
শরীরে অ্যান্টিবডি থাকলেই যে করোনাভাইরাস আক্রমণ করবে না, এমনটা নিশ্চিত করে বলছেন না চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। বেশ কিছু ক্ষেত্রে করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন রেকর্ড রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির প্রথম দিকে অনেকেই মনে করেছিলেন, একবার করোনায় আক্রান্ত হলে তিনি আর দ্বিতীয়বার এতে আক্রান্ত হন না। কিন্তু ওই দাবি এখন আর সত্যি নয়।
এস্তোনিয়া সরকার ইমিউনিটি পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। চিলিও একই ঢঙে ‘রিলিজ সার্টিফিকেট’ ব্যবস্থা আনার প্রক্রিয়ায় আছে। মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ট্রান্সফারওয়াইজের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা তাভেত হিনরিকুস সাহায্য করেছেন এস্তোনিয়ার স্মার্টফোনভিত্তিক ওই ইমিউনিটি পাসপোর্ট ব্যবস্থার উন্নয়নে। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে এটা ব্যবহার করা উচিত। যারা বয়স্কদের দেখাশোনা করেন, তারা এই ব্যবস্থার অধীনে তাদের বয়স্কজনদের কাছে যেতেই পারেন। যদি ইমিউনিটি তত্ত্বের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তাহলে আমি মনে করি, যেসব মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়েছে তাদের কাজে যেতে দেওয়া উচিত।’ আরও কিছু অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোতে অ্যান্টিবডির মাত্রা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে অনফিডোর কথা বলা যেতে পারে। এর সহকারী প্রতিষ্ঠাতা হুসায়েন কাসাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হোটেল চেইন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ইমিউনিটি পাসপোর্ট গ্রহণ করছে।