ঘরোয়া উপাদানে চুলের যত্ন

চুলে কালার করতে

অনেক দিন ধরে ঘরে থেকে হয়তো আপনার চুলের কালার উঠে গিয়েছে। যাদের অল্প বয়সেই চুল সাদা হয়ে গেছে তারা সাদা চুল আড়াল করতে হেয়ার কালার ব্যবহার করেন। কিন্তু এ সময় পার্লারে গিয়ে চুল কালার করতে পারছেন না। তাই ঘরে বসেই চুলে কালার করুন। বাইরে থেকে হেয়ার কালার না কিনে প্রাকৃতিক উপায়ে চুল কালার করে নিতে পারেন। বাজারের হেয়ার কালারে নানা রকম রাসায়নিক উপাদান থাকে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে চুলের অনেক ক্ষতি হয়। তাই সাদা চুল কালার করতে ঘরোয়া জিনিসপত্র ব্যবহার করতে পারেন।

বিটের রস : বাজার থেকে বিট কিনে এনে ভালো করে পরিষ্কার করে কেটে ব্লেন্ডারে রস করে নিন। এই রস ছেঁকে সমপরিমাণ নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে চুলে লাগান। এরপর চুল টাইট করে বেঁধে শাওয়ার ক্যাপ পরে এক থেকে দেড় ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। চব্বিশ ঘণ্টার আগে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না।

কফি : কফি চুলে রঙের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সাদা চুলে কফি একটা বাদামি রং নিয়ে আসবে। প্রথমে আধা কাপ ব্ল্যাক কফিতে এক কাপ লিভ-ইন কন্ডিশনার মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি চুলে ভালো করে লাগান। মিশ্রণটি চুলে এক থেকে দুই ঘণ্টা রেখে দিন। তারপর চুল ধুয়ে ফেলুন।

মেহেদি পাতা : মেহেদি চুল রং করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং বহুল ব্যবহৃত। মেহেদি পাতা মিহি করে বেটে টকদই বা চা পাতা জ্বাল দিয়ে সেই পানি ঠা-া করে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। তারপর চুলে ভালোভাবে লাগান। চুলের রং বেশি করতে চাইলে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা রাখবেন।

এরপর ধুয়ে ফেলুন। এক দিন পর চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

চুল পড়া কমাতে...

ঘরে থাকছেন বলে বাইরের ধুলোবালি ও ঘাম থেকে চুল রক্ষা পাচ্ছে। রোদের তাপও চুলে লাগছে না। তারপরও আপনার চুল পড়ছে। অথচ পার্লারে গিয়ে হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিতে ভয় পাচ্ছেন। চুল পড়া কমাতে ঘরোয়া উপায়ে যতœ নিতে হবে।

টকদই : সবার বাড়িতেই কমবেশি পাওয়া যায়। এটি সহজলভ্য। দই ও মধু মিশিয়ে চুলে লাগান। আধা ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

মেথি : মসলা হিসেবে মেথি খুব পরিচিত। মেথির বীজে নিকোটিনিক অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা চুলের গোড়া শক্ত করে। মেথির বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে, প্রোটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী। মেথির বীজ পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুলে খুশকি কমে। এ ছাড়া, মেথি চুল পড়া কমায়। মেথিবীজ সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর মেথি পিষে পেস্ট বানিয়ে তাতে এক চামচ নারকেল তেল মেশান। এবার এই মিশ্রণটি চুলে লাগান। এক ঘণ্টা রেখে এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনবার করলে চুল ঘন এবং চকচকে হবে।

পেঁয়াজের রস : পেঁয়াজ চুলের বৃদ্ধির জন্য খুব কার্যকর। পেঁয়াজের রসে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে, যা খুশকি কমায়। পেঁয়াজ রস করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। এরপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। সহজেই চুল পড়া কমে যাবে।