মহামারী করোনায় বিশ্বজুড়ে মারা গেছে সোয়া ৫ লাখের বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ১ কোটি ১২ লাখ মানুষ। গত বছরের শেষের দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এই রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে গত ২৭ জুন বিশ্বজুড়ে রোগীর সংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছানোর পরে ১২ লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র ৭ দিনে।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়াল্ডোমিটারের উপাত্ত অনুযায়ী, ২৭ জুন মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়েছিল। এরপরে শনিবার রাতে ওই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৬৫ হাজারে।
ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ অঙ্গরাজ্যেও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে এক সপ্তাহে ১২ লাখ নতুন রোগী মিলল।
সংক্রমণ প্রতিরোধে দেওয়া বিধিনিষেধ শিথিলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রোগীর সংখ্যায় উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। শনাক্তকরণ পরীক্ষার আওতা বাড়ার কারণে উপসর্গহীন অনেক আক্রান্তও এখন তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর চার মাসের মাথায় ১ এপ্রিল বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর পরের সাত সপ্তাহে আরও ৪০ লাখ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় ২১ মে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধ কোটি ছাড়িয়ে যায়। পরের ৫০ লাখ রোগী শনাক্ত হয় আরও কম সময়ে, মাত্র পাঁচ সপ্তাহে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, প্রতি বছর বিশ্বে যত লোক মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়, সাত মাসে মোটামুটি তার দ্বিগুণ মানুষকে সংক্রমিত করেছে নতুন এ করোনাভাইরাস।
শনাক্ত রোগী ১৫ লাখ ছাড়ানো ব্রাজিলে কভিড-১৯ এ মৃত্যু ৬২ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুতে সবার ওপরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রেও এখন প্রায় প্রতিদিনই ৫০ হাজারের বেশি মানুষের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলছে।
রোগী সংখ্যায় শুক্রবার ইতালিকে টপকে গেছে মেক্সিকো। পেরু, চিলিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কয়েকদিনের মধ্যেই ৩ লাখ ছাড়াতে যাচ্ছে।
লকডাউন শিথিলের পর থেকে ভারতেও নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। দেশটিতে শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২২ হাজারেরও বেশি মানুষের দেহে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে।
শনিবার পর্যন্ত ভারতে মোট ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৫ জনের শরীরে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে; মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৫ জনের।