চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামে আবারও হাতির হামলায় ৩ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ সময় হাতির হামলায় চিন্ময় দে(৭০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিবেকানন্দ দে, ননাই দে, পুলিন দে এর বাড়ি ।
শনিবার রাতে এই ঘটনয় ক্ষতিগ্রস্থ সাধনপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড়ের বাণীগ্রাম উত্তর পাড়ার বিবেকানন্দ দে জানান, গভীর রাতে হাতি এসে বাড়িতে হামলা করে। এতে ঘরের ২টি দরজা, জানালাসহ বিভিন্ন মালামাল নষ্ট করে। এ সময় মামা চিন্ময় দে আহত হয়।
বাড়ির অন্য সদস্যরা দুই তলায় উঠে কোন রকমে রক্ষা পেলেও প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামাল নষ্ট হয় বলে তিনি জানান।
এর আগে বাঁশখালীর পুকুরিয়া বৈলগাঁও চা বাগানের অভ্যন্তরে ২ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে বৈলগাঁও চা বাগানের কর্মচারী সত্য নায়েক ও বরুন তাঁতীর বাড়ির দরজা সহ বেশ কিছু মালামাল তছনছ করে । ৩ জুলাই রাতে পুকুরিয়া নাটমুড়া হিন্দু পাড়ায় রঞ্জিত চৌধুরী, বুলু রঞ্জন দে ও অধীর চৌধুরীর বাড়ির দেওয়াল ও জানালা ভেঙ্গে ফেলে।
গত ২৯ জুন চা বাগানের অভ্যন্তরে পাহাড়ি এলাকার লটহল ধলতলীতে ৭-৮ বছর বয়সী এক মৃত হাতি পাওয়া গিয়েছিল। এর পর থেকে হাতির পাল পুকুরিয়া ও সাধনপুরের বিভিন্ন গ্রামে হানা অভ্যাহত রেখেছে।
চলতি বছরে বাঁশখালীর কালীপুর রেঞ্জের আওতায় পাহাড়ী এলাকায় ৩টি হাতি এবং বাঁশখালীর অভ্যন্তরে মোট ৫ টি হাতির মৃত্যু হয়।
বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন জানান, দীর্ঘ দিন থেকে অভিযোগ রয়েছে কিছু লোক গোপনে হাতি হত্যা করে মূল্যবান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার করে আসছে।
সাধনপুর বনবিট কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিল বলেন, খাদ্যের অভাবে হাতি লোকালয়ে চলে আসছে । কখনও একটি, কখনও কয়েকটি হাতি দলবেঁধে চলে আসে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে হাতির খাবার নিশ্চিত করা একটা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, তাতে হাতি লোকালয়ে আসা অনেক কমে যাবে বলে তিনি জানান।
এদিকে গত শুক্রবার বাঁশখালীতে বিগত দিনে হাতির হামলায় নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ৩০ জন সদস্যদের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার।