বিশ্বে এক দিনে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার নতুন রেকর্ড হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৩২৬ জন। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার পরিস্থিতি পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে বিশে^ এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার। তবে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে এক দিনে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত ৩ জুন ২ লাখ ৯ হাজার ৩৭৮ জন।
গতকাল বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত এই ২ লাখের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের বসবাস আমেরিকা মহাদেশে। এর মধ্যে বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর অধিবাসী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৮ হাজার মানুষ। এর মধ্যে একটা বড় অংশ ভারতীয় নাগরিক।
রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ বিশ^ব্যাপী করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৮ জনের।
যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬৪ হাজার ২৬৫ জনের।
এদিকে গতকাল করোনাভাইরাস মহামারীর নতুন উপকেন্দ্র হয়ে ওঠা লাতিন আমেরিকার দেশ মেক্সিকোয় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন এই করোনাভাইরাসে আরও ৫২৩ জনের মৃত্যুর খবর জানায়। তাতে মেক্সিকোতে মৃতের মোট সংখ্যা ৩০ হাজার ৩৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিন আরও ৬ হাজার ৯১৪ জন নতুন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ায় দেশটিতে সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ১৬৫।
রয়টার্স লিখেছে, শনাক্ত রোগীর চেয়ে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে, তা আগেই জানিয়েছিল মেক্সিকো সরকার।
দেশটির সিভিল রেজিস্ট্রির পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যম মিলেনিয়র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো লোপেজ গাতেল মৃতের যে সংখ্যা প্রকাশ করেছিলেন ১৯ জুন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে তার দ্বিগুণ সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়েছিল।
লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ পেরুতেও মৃত্যুসংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ছুঁইছুঁই করছে।