খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার

মসলার দাম কমলেও চাহিদা কম

কয়েক সপ্তাহ ধরে কাঁচাবাজার চড়লেও বিপরীত চিত্র মসলার বাজারে। ঈদ সামনে তবু ক্রেতা কম। তবে গত বছর একই সময়ের চেয়ে এবার বেশিরভাগ মসলা জাতীয় পণ্যের দাম কম। গতকাল রবিবার দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ বাজারের মসলার দোকানগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও ক্রেতা অনেক কম দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির মৌসুমেও এবার মসলার চাহিদা কমায় দাম কম। তবে সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে মসলা জাতীয় পণ্যের। খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাইকারিতে এলাচ আকার, রং ও মানভেদে কেজি ২,৪০০ থেকে ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছর কোরবানির মৌসুমে দফায় দফায় দাম বেড়ে এলাচের কেজি বিক্রি হয়েছিল ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকায়। চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা দারুচিনির কেজি ২৭০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এমন দিনে দারুচিনির দাম ছিল ৪০০-৪৫০ টাকা।

খাতুনগঞ্জে ভারতীয় জিরা ২৬০ এবং তুরস্ক ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করা জিরা ৩৫০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছর কোরবানির বাজারে জিরার দাম ছিল ৪০০ টাকা। গত বছর ভালো মানের ভিয়েতনামের লবঙ্গের দাম ছিল ১৭০০ টাকা। এবার মানভেদে লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৬৮০-১১০০ টাকায়। গোলমরিচ কেজি ৩৭০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে তেজপাতা, মেথি, কালোজিরার দাম বেড়েছে। গতকাল খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে প্রতি কেজি তেজপাতা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে তেজপাতার দাম ছিল ৭০ টাকা। মেথির কেজি ১২০ টাকায় উঠেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা কম। অন্যদিকে কালোজিরার দাম উঠেছে কেজি ২৫০-২৮০ টাকা, যা গত মাসে দেড়শ থেকে ২০০ টাকা ছিল।

খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী মো. সাইফুল বলেন, মসলার ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছি না। দাম কম অথচ চাহিদা নেই। করোনার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। তাই কোরবানির জন্য মসলাপাতি মানুষ তেমন কিনছে না। শুধু তেজপাতা মেথি কালিজিরার দাম কিছুটা চড়েছে। 

এদিকে পেঁয়াজের কেজি পাইকারিতে এখন ১৮-২০ টাকা। খাতুনগঞ্জের হামিদউল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইদ্রিস বলেন, পেঁয়াজ রসুন আদার দাম সব কমে গেছে। এখন ভালো মানের পেঁয়াজ পাইকারিতে ১৮-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ টাকা দামের পেঁয়াজও আছে। রসুনের দাম ৫৫-৬০ টাকা। আদা বিক্রি হচ্ছে কেজি ১১০-১১২ টাকায়। তিনি আরও বলেন, মসলা জাতীয় পণ্যের সরবরাহে সমস্যা নেই, আশা করছি কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দাম বাড়বে না। তবে চাহিদা নেই পণ্যের। বাজারে ক্রেতা আসছে না। এত পেঁয়াজ, দাম কম অথচ ক্রেতা নেই।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাজারে মন্দাভাব। আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েকটি পণ্য ছাড়া বেশিরভাগ মসলার দাম নিম্নমুখী। তাই এবার কোরবানির ঈদে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ নেই। 

খাতুনগঞ্জের এক মসলা ব্যবসায়ী জানান, একমাত্র গুয়েতেমালা থেকে আমাদের দেশে এলাচ আমদানি করা হয়। কিন্তু গত বছর খরার কারণে সেখানে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহ কমে যায়। এরপর গত বছর শেষ দুই মাস থেকে আবারও নতুন করে উৎপাদিত এলাচ বাজারে এলে দাম মোটামুটি নাগালে আসে। তিনি আরও বলেন, সব মসলা পণ্য তো প্রায় ৩-৪ মাস আগে বাজারে ঢুকেছে। তখন সব কিছুর দাম কম ছিল। কেউ এখন বাড়ালে তা সিন্ডিকেট করেই বাড়াবে।

এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ২৮ জুন অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত দামে মসলা বিক্রির দায়ে চার প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।