কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সবকটি পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার পানি কমতে শুরু করায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে।
তবে ধরলা নদীর বন্যা কবলিত এলাকার ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় দুর্ভোগ কমেনি বানভাসীদের। ত্রাণ স্বল্পতার কারনে এসব এলাকায় খাদ্য সংকট বেড়েই চলেছে।
অন্যদিকে ধরলা নদীর বিভিন্ন নিমাঞ্চলে বসবাসকারি অনেক মানুষজন পাকা সড়ক, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব পরিবারের ঘর-বাড়ি থেকে পুরোপুরি বন্যার পানি সরে না যাওয়ায় তারাও ঘরে ফিরতে পারছে না। বন্যা দুর্গত এলাকায় চলছে গো খাদ্যের সংকট। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় পানি নেমে যাওয়ায়, ভেসে ওঠা ঘর-বাড়িগুলো ও রাস্তাঘাটে থকথকে পলিযুক্ত কাদায় বিপাকে পড়েছেন মানুষজন।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগার চরের আক্কাস আলী ও বাবুল মেম্বার জানান, পানি নামার পর শুরু হয় আরেক দুর্ভোগ। হাত-পায়ে কাদায় ঘা, চুলকানি দেখা দেয়। এছাড়া ডায়রিয়া দেখা দেয় বেশিরভাগ এলাকায়। থকথকে কাদায় জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তবে ৫/৬দিন কড়া রোদ হলে পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাবে।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিক মন্ডল জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করায় চরাঞ্চলের ঘর-বাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। পানি নেমে গেলেও বন্যা দুর্গত মানুষদের পর্যাপ্ত ত্রাণের প্রয়োজন রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চরের বাসিন্দা আমির হামজা জানান, বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাজ জুটছে না। আবার নদীতে তেমন মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।ধরলা সেতু পয়েন্টে, ধরলার পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কমেছে তিস্তা, দুধকুমরসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি।
জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যা কবলিতদের জন্য সরকারী বেসরকারী ত্রাণ অব্যাহত রয়েছে।