দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের ৭৭ শতাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। সর্বোচ্চ ৫১ শতাংশের বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় এবং ২৬ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে। সবচেয়ে কম প্রায় আড়াই শতাংশ মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহে। গতকাল সোমবার দেশে করোনা শনাক্তের ১২১তম দিন বা পঞ্চম মাসের প্রথম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৪৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৬ জন। নতুন করে আরও ৩২ শতাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এদিন নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ২০১টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ২৪৫টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ৩ হাজার ২০১ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪৪ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৫২৪ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৮ লাখ ৬০ হাজার ৩০৭টি নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৯৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ হাজার ১৪৯ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন ও নারী ১১ জন। সর্বোচ্চ ১৭ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১১ জন, বরিশালে ৪ জন, রাজশাহী ও সিলেটে ৩ জন করে এবং খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহে ২ জন করে মারা গেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৫ জন এবং বাড়িতে ৯ জন। এদের মধ্যে ২১-৩০ বছরের ১ জন, ৩১-৪০ বছরের ২ জন, ৪১-৫০ বছরের ৬ জন, ৫১-৬০ বছরের ১৩ জন, ৬১-৭০ বছরের ১৫ জন, ৭১-৮০ বছরের ৬ জন এবং ৮১-৯০ বছরের ১ জন।
বুলেটিনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৬৫৭ জন এবং নারী ৪৩৯ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নারী ২০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এছাড়া সর্বোচ্চ ৯১২ জন মারা গেছেন ষাটোর্ধ্ব বয়সের। বাকিদের মধ্যে ৫১-৬০ বছরের ৬০৬ জন, ৪১-৫০ বছরের ৩১৭ জন, ৩১-৪০ বছরের ১৫৩ জন, ২১-৩০ বছরের ৭১ জন, ১১-২০ বছরের ২৪ জন এবং সবচেয়ে কম ১৩ জন ০-১০ বছর বয়সের।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেশে মোট ২০৯৬ জন মৃতের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৭৭ জন বা শতকরা ৫১ দশমিক ৩৮ শতাংশ মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঢাকায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪৫ জন বা শতকরা ২৬ শতাংশ মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলে মারা গেছেন মোট ১৬২২ জন, যা মোট মৃত্যুর শতকরা ৭৭ শতাংশের বেশি। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে শতাধিক মৃত্যু আছে শুধু রাজশাহীতে, সেখানে মারা গেছেন ১০৫ জন। এছাড়া খুলনায় ৯০ জন, সিলেটে ৮৯ জন, বরিশালে ৭৬ জন, রংপুরে ৬৩ জন এবং ময়মনসিংহে মারা গেছেন সর্বনিম্ন ৫১ জন।
ডা. নাসিমা জানান, সারা দেশের কভিড হাসপাতালগুলোতে মোট ১৪ হাজার ৭৭৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন ৪ হাজার ৪৪৯ জন এবং মোট ৪০১টি আইসিইউ বেডের মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ২২০ জন। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৭১৫ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৬৪৪ জন।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৬৭৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১৬ হাজার ৭৯৪ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ২ হাজার ১৩৮ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৩ হাজার ৮০১ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৭৮টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৭১০ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।