দাদন কারবারি নারীর ফাঁদে বেসরকারি শিক্ষকরা!

দিনাজপুরের দাদন কারবারি এক নারীর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক নিরীহ শিক্ষক-কর্মচারী। ঋণ দেওয়ার নামে স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা চেকবই, স্ট্যাম্প ও জমির দলিল জমা নিয়ে ইচ্ছেমতো ঋণের ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি অঙ্কের টাকা লিখে ভুক্তভোগীদের নামে হয়রানিমূলক চেক জালিয়াতির মামলা ও উকিল নোটিস প্রদান করছেন নাজমা বেগম নামে ওই দাদন ব্যবসায়ী।

এভাবে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীকে দাবিকৃত টাকার পরিবর্তে জমি লিখে দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ। প্রায় এক যুগ ধরে নাজমা বেগমের এসব বেআইনি কাজের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে পার্বতীপুর উপজেলার সোনালী ব্যাংক হুগলীপাড়া শাখা। এ শাখায় কর্মরত একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও কতিপয় ভাড়াটে ব্যক্তি তার এই অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করে আসছে। এ কাজে তাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করছে তার বড় ছেলে নাবির শাহ নয়ন। নয়ন সোনালী ব্যাংক হুগলীপাড়া শাখায় দারোয়ান পদে কর্মরত। সে এই ব্যাংক শাখায় অ্যাকাউন্টধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবের খুঁটিনাটি তথ্য তার মা নাজমা বেগমকে সরবরাহ করে থাকে।

আর এসব তথ্য ব্যবহার করে তার মা নাজমা বেগম ফাঁকা চেকে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে ভাড়াটে ব্যক্তিদের নামে ইস্যু করেন। তারা ঋণগ্রহীতা শিক্ষক-কর্মচারীদেরে নামে থাকা ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে গিয়ে চাহিদামতো অর্থ জমা না থাকার অজুহাতে চেক ডিজঅনার হয়। এভাবে চেক ডিজঅনারের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রথমে উকিল নোটিস, পরে চেক জালিয়াতির মামলা করা হয়।

২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর নাজমা বেগম খোড়াখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত একটি ফাঁকা চেকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আমেজুল হক ম-লের নামে সাড়ে ৪ লাখ টাকার চেক ইস্যু করেন। চেকটি ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংক হুগলীপাড়া শাখায় জমা করা হলে সেটি ডিজঅনার হয়। এ অজুহাতে ১১ ডিসেম্বর ওই স্কুলশিক্ষক হারুনুর রশিদকে উকিল নোটিস পাঠানো হয়। বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের এ রকম অনেক অভিযোগ আছে নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে। এভাবে তিনি তাদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বাড়তি টাকা কিংবা জমি আদায় করেন। এ পন্থা অবলম্বন করে নাজমা বেগম বাসাবাড়ি, আবাদি জমি ও নগদ অর্থসহ কয়েক কোটি টাকার অর্থ-সম্পদ অর্জন করেছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নাজমা বেগম বলেন, ‘তাদের টাকা লোন দিছি, আমি আমার টাকা ফেরত চাই। যত টাকা চাই তা যদি দিতে না চায় তবে তারা চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে কত দিতে পারবে আলোচনা করে তা নিষ্পত্তি করতে পারে।’  সোনালী ব্যাংক হুগলীপাড়া শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক প্রদীপ রায় বলেন, ‘অল্পদিন হলো এ শাখায় যোগদান করেছি। ব্যাংকের দারোয়ান নাজমা বেগমের ছেলে নাবির শাহ নয়নের বেআইনি কাজে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ মিথুন মুন্নী বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ‘সরকারি ব্যাংকের ম্যানেজারের সিল ও বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা চেকবই ও দলিলসহ নথিপত্র নাজমা বেগমের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারী ও নাজমা বেগমকে ডেকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’