পুলিশের দাবি ‘বন্দুকযুদ্ধ’, আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি ‘হত্যা’

পাবনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটকের পর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তানজিল নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। বুধবার ভোরে সদর উপজেলার চর শিবরামপুর স্লুইচ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানজিল পাবনা শহরের রামচন্দপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম ওরফে বাবু শেখের ছেলে। পুলিশের দাবি তিনি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ ৫ টি মামলা রয়েছে। 

তবে পরিবার ও স্বজনরা দাবি করেছেন, তানজিল কোনো সন্ত্রাসী নয়। তার বিরুদ্ধে কোনো অস্ত্র বা হত্যা মামলাও নেই। বিশেষ একটি মহলের ইন্ধনে সুপরিকল্পিতভাবে তাকে অর্থের বিনিময়ে ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’ করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে তানজিলের স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছেন। 

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে একদল সন্ত্রাসী সদর উপজেলার শিবরামপুর সুইচ গেট এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশও গুলি ছুঁড়লে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে  সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে তানজিলের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

তবে পুলিশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করছে নিহত তানজিলের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাসেল আলী ওরফে ভিপি মাসুদ।

তিনি বলেন, তানজীলের বিরুদ্ধে থানায় কোনো চাঞ্চল্যকর বা আলোচিত মামলা ছিল না। কোনো হত্যা বা অস্ত্র মামলাও নেই। কেবল এলাকায় ঝামেলার সূত্রে বিস্ফোরক আইনে মিথ্যা মামলা ছাড়া বড় কোনো মামলাও ছিল না। 

মাসুদ আরো বলেন, গত রাতে থানায় আটক করে নিয়ে গেলে আমি দেখা করার জন্যে থানায় গিয়েছিলাম। তবে আমার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ। ভোরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ক্রসফায়ারের নামে এভাবে হত্যা করে ক্রসফায়ার বলে চালানো হচ্ছে।  

তানজিলের বাবা বাবু শেখ বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে বিশেষ একটি মহলের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবিও করেন তিনি। 

তানজীলের মৃত্যকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তসলিম হাসান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদা শবনম, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ খানসহ অনেকে। 

এদিকে ঘটনা পর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পাবনায় কর্তব্যরত কোনো দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। একাধিকবার ফোন করেও তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করা সম্ভব হয়নি বলেও একাধিক সংবাদকর্মী নিশ্চিত  করেছেন।

পরে বেলা একটার দিকে দু'একজন পুলিশ অফিসার সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করে বিস্তারিত না বলে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছেন বলে কথা শেষ করেন।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে নিহতের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়।  

এরপর পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন জেলা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম । তানজিল এলাকায় বড় মাপের সন্ত্রাসী ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।