মিরসরাইয়ে বাড়ি নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার কারণে দেড় হাজার একর জমিতে আমন চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খইয়াছড়া ইউনিয়নের ছড়ার মুখে বাড়িও ভিটা নির্মাণ করায় এমন অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
চাষাবাদ অনিশ্চিয়তার কারণে আমন বীজতলা তৈরির মৌসুম চললেও খইয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা, দুয়ারু, মায়ানী, মসজিদিয়া এলাকায় কৃষকরা বীজতলা তৈরি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে রয়েছেন।
ছড়ার মুখ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে খইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নন্বর ওয়ার্ডের সদস্য আহম্মদ আলী চৌধুরী মোসলিম রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ইউপি সদস্য আহম্মেদ আলী চৌধুরী জানান, খইয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা এলাকার পশ্চিম বিল নামে পরিচিত বিলে প্রায় এক হাজার একর তিন ফসলি কৃষি জমি রয়েছে। বর্ষায় ওই বিলের পানিগুলো বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের পাশের মাতাইয়া ছড়া হয়ে সাহেরখালী খাল দিয়ে নিষ্কাশন হতো।
তিনি বলেন, কিন্তু পশ্চিম পোলমোগরা বিল সংলগ্ন মাতাইয়া ছড়ার মুখে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রেখে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাড়ি তৈরি ও পুকুর খনন করায় এখন আর বিলের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শতশত কৃষক চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
তিনি বলেন, দু-তিন বছর ওই বিলের প্রায় এক হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্টা হলেও কোনো উপকার হয়নি। তাই এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বরাবরে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দিয়েছি।
স্থানীয় কৃষক সাবমিয়া, সৈয়দ আহম্মদসহ কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে বিলে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন হওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় কৃষকরা আমন বীজতলা তৈরি করছে না। বিলের মধ্যে জলাবদ্ধতায় ঘাস আর জোঁকে ভরে উঠেছে। এবারও চাষাবাদ করা হবে বলে মনে হয় না।
সাবেক মেম্বার সত্তরোর্ধ জসীম উদ্দিন, তাজুল ইসলাম, নুরনবীসহ একাধিক কৃষক জানান, যুগযুগ ধরে তারা দেখে আসছেন পশ্চিম পোলমোগরা বিলের পানি স্থানীয় কাশেমের বাড়ির সামনে দিয়ে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের পাশে মাতাইয়া ছড়া দিয়ে সাহেরখালী খালে নিষ্কাশন হতে। এখন ওইসব জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে নতুন বাড়ি তৈরি করায় জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তারা বলেন রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধিদের পেছনে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে একই ইউনিয়নের মসজিদিয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় বারমাসি ছড়ার মুখ ভরাট করে ভিটা তৈরি করায় প্রায় পাঁচ’শ একর জমির আমন চাষাবাদ নিয়ে কৃষকের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় রবিউল হোসেন, নুরনবী, নেপাল, গুরামিয়া জানান, চৌধুরীপাড়া এলাকায় বারমাসি ছড়ার মুখে কয়েক বছর আগে ভিটা তৈরি করায় জলাবদ্ধতায় আমন রোপা নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে কৃষকরা চাষাবাদ চালিয়ে আসছেন। কিন্তু এবছর ওই ভিটা আরো উচুঁ করায় বর্ষার পানি নিষ্কাশন হওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চিন্তুা দেখা দিয়েছে। ছড়ার মুখে থাকা বাঁধ অপসারণ করা না হলে আমন রোপা পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন চাষীরা।
নতুন বাড়ি নির্মাণকারী আনোয়ার হোসেন মাস্টার স্থানীয়দের জানান, তিনি তার নিজের জায়গায় মাটি ভরাট করে বাড়ি করেছেন। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।
মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, পোলমোগরা বিলে চাষাবাদ বিঘ্ন হওয়া বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কোথাও ছড়ার মুখে বাঁধ দিয়ে চাষাবাদের বিঘ্ন করা যাবে না। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।