কার্যক্রমের চার মাস

এবার প্লাজমা সংগ্রহ লড়াইয়ে করোনা বীর খোরশেদ

একাকী লড়াইয়ে নেমে এখন পুরো টিম নিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়ছেন ‘করোনা বীর’ কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। দেশে করোনার শুরু থেকেই তার কার্যক্রম শুরু হয়। আজ ৯ জুলাই ৪ মাস পূর্ণ হতে চলেছে এই কার্যক্রমের।

সচেতনতার প্রচারপত্র বিলি থেকে শুরু করে সর্বশেষ প্লাজমা সংগ্রহ কার্যক্রমÑ সবগুলোই চালু রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সভাপতি খোরশেদ। করোনায় আক্রান্তদের দাফন/ সৎকার করে আলোচিত হন তিনি।

এ পর্যন্ত তার টিম ৯৮টি দাফন সম্পন্ন করেছে। যার মধ্যে ৯টি স্বাভাবিক মৃত্যু। অন্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি। এ ছাড়া ৬০ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ এবং অর্ধশতাধিক ব্যাগ প্লাজমা সংগ্রহ করে বিতরণ, প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ১৫ হাজার মানুষকে টেলিমিডিসিন সেবা দিয়েছে তার টিম।

এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি, তার স্ত্রী এবং টিমের কয়েকজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেও থেমে থাকেনি কার্যক্রম। বরং সুস্থ হয়ে নিজেরাই প্লাজমা দিয়েছেন এবং আবার পুরোদমে কাজ করছেন। খোরশেদ ইতিমধ্যে দুবার প্লাজমা দিয়েছেন।

তার টিমে আছেন স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা, খন্দকার নাঈমুল আলম, আরাফাত খান নয়ন, ইসতিয়াক সাইফি, শাহেদ আহমেদ, রিজন আহমেদ, রিটন দে, ডা. জেনিথ, ডা. ফায়জানা ইয়াসমিন স্নিগ্ধাসহ ৬০ জন।

খোরশেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে জানান, এ লড়াইটা মানবিকতাকে টিকিয়ে রাখতে। প্রথম দিকে এমন একটা সময় ছিল যখন বাবা মারা গেলে সন্তান সে ঘরেও যেত না। লাশ আমরা আনতে গেলে ঘরের চাদরসহ আমাদের দিয়ে দিত। তখন এই মানবিক সংকট কাটাতে আমরা মাঠে নামি। ধীরে ধীরে ভয় কাটে, মানুষ এগিয়ে আসে। এখন সেই অবস্থা নেই। আমরা চাই মানবিকতা টিকে থাকুক, সতকর্তায় করোনা মোকাবিলা হোক।