করোনা মহামারীতে ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ডেকোরেটর, মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম। উপজেলায় এ কাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় দুই হাজার মালিক-শ্রমিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
উপজেলায় মাইক সার্ভিস ও ডেকোরেটর ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে অর্ধশতাধিক মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। এ ছাড়া ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠান রয়েছে শতাধিক। এসব প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা তিন শতাধিক এবং চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করেন আরও হাজারের বেশি শ্রমিক। এসব ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল প্রায় দুই হাজার মালিক-শ্রমিক।
উপজেলায় মাইক সার্ভিস ও ডেকোরেটর ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা এখন রীতিমতো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। তারা বলছেন, এ রকম আরও দু-তিন মাস চললে বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। যারা স্থায়ীভাবে চাকরি করেন, তাদের অনেকে বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। যারা চুক্তি ভিত্তিতে শ্রমিকের কাজ করেন, তাদের অবস্থা শোচনীয়। মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।
আজাদ মাইক সার্ভিসের মালিক নুর মোহাম্মদ বলেন, উপজেলায় ৫০টির বেশি মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের দোকান রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ওসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসা হচ্ছে না। এমনকি মৃতব্যক্তির জানাজার মাইকিংও হচ্ছে না। এ অবস্থায় সাড়ে তিন মাসে তিনশ টাকাও আয় হয়নি কারও। তবু কর্মচারীদের খরচ চালাতে হয়, জমানো টাকাও শেষ। সামনে কী করব ভেবে পাচ্ছি না।
সাউন্ড সিস্টেমের শ্রমিক আবু তাহের জানান, পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগানোর একমাত্র ভরসা তিনি। কিন্তু তিন-চার মাস ধরে দোকান বন্ধ থাকায় তার বেতন বন্ধ।
উপজেলা ডেকোরেটর্স মালিক সমিতির সভাপতি মো. সামশুদ্দিন বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক সময় লাগবে। ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। ব্যবসা বন্ধ থাকায় নতুন করে ঋণ পাচ্ছেন না কেউ। অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দেবেন। গত কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিল, গুদাম ভাড়া বাকি রয়েছে। কর্মচারী পাওয়া যাবে না। তার আশঙ্কা বিভিন্ন কারণে অনেকে ডেকোরেটর শিল্প থেকে হারিয়ে যাবেন।