সারা দেশে ৩৭৯ নারী পুলিশ সদস্য আক্রান্ত

করোনাভাইরাসে পুরুষের পাশাপাশি পুলিশের নারী সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতিমধ্যে সারা দেশে ৩৭৯ নারী সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৯৬ জন রয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, আক্রান্তদের অধিকাংশ করোনা জয় করে কাজে যোগ দিয়েছেন। বাকিরা সংশ্লিষ্ট ব্যারাক ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা আরও জানান, আক্রান্তদের বেশিরভাগই কনস্টেবল পদমর্যাদার। পোশাক খাতের অসন্তোষ নিরসন ও পেশাদার অপরাধীদের গ্রেপ্তারে মাঠপর্যায়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে তারা সংক্রমিত হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী পুলিশ সদস্য জানান, পুরুষের চেয়ে পুলিশের করোনা আক্রান্ত নারী সদস্যের আতঙ্ক ও দুর্ভোগ বেশি। তার মতো অনেকের পরিবারে শিশুসন্তান রয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক মা ছাড়া কিছু বোঝে না। সামাজিক হয়রানি ছাড়াও ব্যারাকে অপরিছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সেবাদাতাদের অনাগ্রহের শিকার হতে হয় বলে জানান তিনি। চিকিৎসাধীন একাধিক নারী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকলেও তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বেশিরভাগ সদস্যকে ব্যারাকে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। সেখানে কারও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেই কেবল পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তরে তিন নারী আক্রান্ত হয়েছেন। ডিএমপিতে ৯৬ জন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ১১, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে (কেএমপি) ৩, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরএমপি) ১০, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) ৭, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরপিএমপি) ৫, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে (বিএমপি) ৭, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ৪ ও র‌্যাবের ২০ নারী সদস্যের কভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। ডিএমপির পর সবচেয়ে বেশি নারী সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা রেঞ্জে, ৪৭ জন। চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৪০, রাজশাহী রেঞ্জে ১৭, বরিশাল রেঞ্জে ৯, খুলনা রেঞ্জে ৫, রংপুর রেঞ্জে ৮, সিলেট রেঞ্জে ২৫ ও ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৩ নারী সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া এসপিবিএন-১-এ ২ জন, এসপিবিএন-২-এ ৯, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) ৮, সিআইডিতে ১০, শিল্পপুলিশে ৯, হাইওয়ে পুলিশে ১, টিঅ্যান্ডডিআইএমে ১, পিবিআইয়ে ১, রেলওয়ে পুলিশে ১, নোয়াখালী পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১ ও খুলনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১ নারী আক্রান্ত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশের প্রত্যেক সদস্যই সংক্রমণঝুঁকি মাথায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ আক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ নারী করোনা জয় করে কাজে ফিরেছেন। বাকিদের চিকিৎসা ও মনোবল চাঙ্গা রাখতে সার্বক্ষণিকক খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।’ ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নাদিয়া ফারজানা জানান, গত বুধবার পর্যন্ত ডিএমপির ৯৬ নারী সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮৪ জন সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন। বাকিরাও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

শিল্পপুলিশের এক নারী সদস্য জানান, পোশাক কারখানায় অনেক নারী উপসর্গ নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সেখানে স্বাস্থ্যবিধিও তেমন মানা হয় না। এসব শ্রমিকের সংস্পর্শে কাজ করতে গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।

এ বিষয়ে শিল্পপুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাসের জনি দেশ রূপান্তরকে জানান, পোশাক কারখানার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নারী-পুরুষ মিলে তাদের শতাধিক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পজিটিভ এলে পুলিশ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।