এফআরসির প্র্রজ্ঞাপন

প্রভিডেন্ট ফান্ডের অনিয়মে ৫ বছরের সাজা

প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ডকে প্রতি হিসাব বছর শেষে প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাজেয়াপ্ত তহবিল থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাভক্ষতির হিসাবে ফেরত আনতে হবে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। গত বুধবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্র্রভিডেন্ট ফান্ড এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি লঙ্ঘন হলে প্র্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের কারাদ- অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।

এফআরসির চেয়ারম্যান সি কিউ কে মুসতাক আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থ সংস্থাগুলোর শ্রমিক বা কর্মচারী বা উভয়ের জন্য গঠিত অংশগ্রহণমূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডে নিয়োগকর্তার অংশ পাওয়ার আগেই অনেকে চাকরি ছেড়ে দেন বা অবসর গ্রহণ করেন। এমন ক্ষেত্রে শ্রমিক বা কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে নিয়োগকর্তার অংশ নিতে পারেন না। এই অদাবিকৃত অর্থ প্র্রভিডেন্ট ফান্ডের বাজেয়াপ্ত তহবিল হিসেবে জমা করা হয়।

এফআরসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের বাজেয়াপ্ত তহবিল আর্থিক বিবরণীতে দায় হিসেবে দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে সেটি বিনিয়োগ করে বিদ্যমান শ্রমিক ও কর্মচারীরা বেশি মুনাফা নিচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পরে এ তহবিল নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কর্মচারী ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছে। এফআরসির দৃষ্টিতে এটি তহবিল তসরুফের পর্যায়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন জনস্বার্থ সংস্থা পরবর্তী সময়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডে প্রদেয় অংশের সঙ্গে বাজেয়াপ্ত তহবিল সমন্বয় না করে বা প্রতিষ্ঠানের লাভক্ষতি হিসাবে ফেরত না আনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কম দেখানোর পাশাপাশি আয়কর ফাঁকি দিচ্ছে।

এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ তহবিলের আর্থিক বিবরণী প্র্রস্তুত করতে এফআরসি কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ডকে প্র্রতি হিসাব বছর শেষে প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাজেয়াপ্ত তহবিল থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট প্র্রতিষ্ঠানে ফেরত দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের হিসাবকাল একই দিনে সমাপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্র্রতিষ্ঠান এ হিসাবকালেই প্র্রভিডেন্ড ফান্ডে প্র্রদেয় অর্থ সমন্বয় করবে। আর হিসাবকাল একই দিনে সমাপ্ত না হলে প্র্রভিডেন্ড ফান্ডের হিসাব বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষা সম্পন্ন করে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাজেয়াপ্ত তহবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে। জনস্বার্থ সংস্থা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ডকে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর প্রথম তফসিল পার্ট বি’র শর্তগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতে হবে।

জনস্বার্থ সংস্থাকে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ফেরত পাওয়া বাজেয়াপ্ত তহবিল লাভক্ষতি বিবরণীতে অন্যান্য আয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে করযোগ্য আয় গণনা করে করপোরেট আয়কর সংরক্ষণ করতে হবে।

২০১৫ সাল থেকে জনস্বার্থ সংস্থায় কর্মরত শ্রমিক বা কর্মচারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বাজেয়াপ্ত তহবিল বণ্টন করা হয়ে থাকলে তা চলতি বছরের মধ্যে তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে এ অর্থ আদায় করতে হবে। আর প্র্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধাভোগী কর্মচারী সংশ্লিষ্ট প্র্রতিষ্ঠান থেকে চলে গেলে বা অবসর গ্রহণ করেছে এমন ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্র্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর কাছ থেকে অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ পুনরুদ্ধার করবে। অতিরিক্ত অর্থ পুনরুদ্ধার করা না গেলে এর সমপরিমাণ অর্থ নিয়োগকারী প্র্রতিষ্ঠানের পরিচালন ক্ষতি হিসেবে পুনরায় শ্রেণিকৃত করে হিসাবভুক্ত করতে হবে।

বাজেয়াপ্ত ফান্ডসহ প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রদেয় হারের চেয়ে বেশি পরিমাণ প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিশোধ করা হয়ে থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আলোচনা করার পাশাপাশি ট্রাস্টি বোর্ডকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে নিরীক্ষা প্র্রতিবেদনে নিরীক্ষকের বিরূপ মতামত না থাকলে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা ফার্মকে জবাবদিহির আওতায় আনবে এফআরসি। তাছাড়া জনস্বার্থ সংস্থার প্র্রভিডেন্ট ফান্ডের আর্থিক বিবরণী হিসাব বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এফআরসি, অর্থ মন্ত্রণায়লসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। এ প্র্রজ্ঞাপনের কোনো শর্ত ভঙ্গ বা নির্দেশনা প্র্রতিপালন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫-এর ৪৮ ধারা অনুযায়ী ৫ বছরের কারাদ- অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

এ বিষয়ে এফআরসির নির্বাহী পরিচালক সাঈদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাণিজ্যিক প্র্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক হিসেবে ওই অর্থ ব্যয় হিসেবে চার্জ করে এবং এর মাধ্যমে কর সুবিধা নিচ্ছে। চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়া কর্মীর প্র্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা আরেকজনকে দেওয়া যৌক্তিক নয়। এটা জালিয়াতি। ওই অর্থ হয় চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়া কর্মীকে দিতে হবে অথবা কোম্পানির হিসাবে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং কর দিতে হবে। এসব শর্ত না মানলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।