ধরে রাখতে পারেন না জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি কথা বললেন সদ্যপ্রয়াত শিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান
মন ভালো নেই
এন্ড্রু দা’র মৃত্যুর পর মনটা খুব একটা ভালো নেই। ওনার মতো গুণী শিল্পীর আরও বেশি দিন বেঁচে থাকা দরকার ছিল।
তার তুলনা হয় না
আমরা তো আসলে বেশি সময় ওনাকে পাইনি। ২০১০ থেকে প্রফেশনাল কাজ শুরু করেছি। এন্ড্রু দা এমন একজন শিল্পী তার চাহিদায় কখনো ঘাটতি পড়েনি। এখনকার শিল্পীরা বেশি দিন চাহিদা ধরে রাখতে পারেন না। সাধারণত কোনো শিল্পীর ১০/১৫ বছর গান গাওয়ার পর চাহিদায় ভাটা পড়ে কিন্তু এন্ড্রু দা’র জনপ্রিয়তায় কখনো ভাটা পড়েনি। তিনি সাবিনা আপা, রুনা আপা, কনক আপা থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গেও গেয়েছেন। এমনকি আমার সঙ্গেও কাজ করেছেন। অথচ ওনার কণ্ঠে বয়সের কোনো ছাপ পড়েনি। তিনি ছিলেন চির-তরুণ। তিনি যেমন প্লেব্যাক করেছেন, তেমনি দাপিয়ে স্টেজ শোও করেছেন।
ছোটবেলার মুগ্ধতা
এন্ড্রু কিশোর সবারই প্রিয় ছিলেন। আমার প্রিয় তিনি। ছোটবেলায় দেখেছি, তিনি একবার ইত্যাদি অনুষ্ঠানে হাজির হলেন, তখন মানুষ বলা শুরু করল যে, এই প্রথম মানুষ এন্ড্রু কিশোরকে দেখলো। তার আগে ওনার গান আমরা নায়কদের ঠোঁটে শুনেছি, কিন্তু সেই গানের মানুষটা যে তিনি সেটাই প্রথমবার জানতে পেরেছিলাম। আমার ধারণা, সর্বাধিক বাংলা সিনেমার গান এন্ড্রু দা’র।
কাজের অভিজ্ঞতা
এন্ড্রু দা’র সঙ্গে আমার গান রেকর্ড হয়েছে মাত্র একটা। কিন্তু স্টেজ শো করেছি ১৮/২০ বার। আমার অডিয়েন্স এক রকম, দাদার আরেক রকম। দেখা যেত আমি আগে স্টেজে উঠেছি, দাদা পরে উঠেছে। কারণ, দাদার তো গানের শেষ নেই। আর আমার তো ১০/১৫টা গানের বেশি ছিল না। দেখা গেছে, আমি গান গাইছি, উনি সামনে বসে শুনছেন, কমেন্ট করছেন। আমি সব সময় ঠান্ডা পানি খাই। তো তিনি আমার স্বামীকে বলতেন, ও যেন ঠান্ডা পানি না খায়। উনি ওনার কাছের মানুষদের নিয়ে আড্ডা দিতেন। তার বয়সের সঙ্গে কণ্ঠের বয়স কিন্তু বাড়েনি। কিছু মানুষের বিকল্প হয় না। এন্ড্রু কিশোরের মতো দ্বিতীয় কেউ বাংলাদেশে আর জন্ম নেবে না। তিনি গানের প্রতি প্রচণ্ড অ্যাগ্রেসিভ ছিলেন। ওনাদের সময় স্বস্তির একটা সময় ছিল। তখন গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসাও ছিল।
মসৃণ পথের স্রষ্টা
একজন অনুজ হিসেবে বলতে পারি, এন্ড্রু দা, রুনা আপা, সাবিনা আপা গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এমন সময়ে তারা গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন যখন এটা খুবই কঠিন ছিল। ওই সময়ের সমাজের সমস্ত কটাক্ষকে উপেক্ষা করে গানকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া সত্যিই অসম্ভব সাহসী পদক্ষেপ ছিল। আজ আমি গানকে পেশা হিসেবে নিতে পারছি, এটার মসৃণ পথ তারাই তৈরি করে দিয়েছেন।
রয়ে গেল হাহাকার
করোনার এই সময়ে ওনার মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা। কারণ, এই সময়ে ওনার অগণিত ভক্ত ওনার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ওনার কফিনের পাশে যেতে পারবেন না। এই একটা হাহাকার থেকে গেল।