বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গতকাল শনিবার দিনভর বৃষ্টিতে নাকাল হয়েছে নগরবাসী। সেই সঙ্গে ছিল ঝড়ো হাওয়ার ঝাপটা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল রয়েছে সাগর। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটারেজ (ছোট) জাহাজে পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বড় জাহাজে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজে খালাস করা হয়। কিন্তু বৃষ্টি থাকলে জাহাজের হ্যাচ খোলা যায় না। বৃষ্টির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টি না থাকলে হ্যাচ খুলে খালাস করা হয়, আবার বৃষ্টি এলে হ্যাচ বন্ধ করে ফেলা হয়। এভাবেই আজ (শনিবার) দিনভর বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের কাজ চলেছে।’ বন্দরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা মোট জাহাজের সংখ্যা ছিল ৪৯টি। এর মধ্যে ৫টি কনটেইনার জাহাজ, ১২টি সাধারণ পণ্যবাহী, ৬টি খাদ্যশস্যবাহী, ২টি সারবাহী, ১৯টি ক্লিংকারবাহী, ২টি চিনিবাহী ও ৩টি অয়েল ট্যাংকার।
বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নবী আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) দেওয়া বরাদ্দ অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় ও বৃষ্টির কারণে একটানা লাইটারেজ জাহাজে পণ্য লোড করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি না থাকলে সেখানে পণ্য খালাসের কাজ চলে, আবার বৃষ্টি এলে বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
চট্টগ্রামে গত শুক্রবার রাত থেকেই ঝরছে বৃষ্টি। গতকাল সারা দিন নগরীর আকাশে দেখা মেলেনি সূর্যের। দিনভর দমকা হাওয়াসহ থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরেছে। ফলে নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সকাল থেকে অফিসগামী লোকজনকে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। ছাতা কিংবা রেইনকোট ছাড়া যারা বাসা থেকে বের হয়েছেন, তাদের অনেককে বৃষ্টিতে ভিজে যেতে হয়েছে কর্মস্থলে। বৃষ্টির কারণে গণপরিবহনের সংখ্যাও ছিল তুলনামূলক কম। এই সুযোগে রিকশা ও অটোরিকশার চালকরাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিয়েছেন যাত্রীদের কাছ থেকে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ফরিদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজও বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।