দিনাজপুরে থানা ভাঙচুরের মামলায় জামিন নিতে গেলে ২ সরকারি কর্মচারীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা ঘেরাও এবং ভাঙচুরের মামলায় দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের উচ্চমান সহকারি মো. শাওন ও দিনাজপুর সরকারি কলেজের মাস্টারোলে চাকরি করা রায়হান হান্নান দ্বীপ এবং রাজা নামের এক ব্যক্তি আত্মসর্মপণ করতে গেলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।
সোমবার দুপুরে দিনাজপুর জজকোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে আত্মসর্মপণ করতে গেলে তিনি ওই ৩ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১১ জুন দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ইমাম আবু জাফর রজব ও দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হলে দলীয় নেতাকর্মী ও ছাত্রলীগ নেতাদের একাংশ তাদের মুক্তির দাবিতে কোতোয়ালি থানা ঘেরাও ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এতে ১৪ পুলিশ সদস্য আহত হলে পুলিশ বাদি হয়ে ওইদিন রাতেই ৪৭ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনের নামে মামলা দায়ের করে।
দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রায়হান হান্নান দ্বীপ আমি অধ্যক্ষ হওয়ার আগেই মাস্টারোলে চাকরিতে ছিল। পরে তাকে দর্শন বিভাগ থেকে লাইব্রেরিতে দেওয়া হয়। তাকে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে বিষয়টা মাত্র জানলাম। আদালত থেকে যদি কোনো নির্দেশনা আসে তাহলে অবশ্যই পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিল সভায় আমরা আলোচনা করব। সেখানেই তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে সরকারি চাকরির বিধি মোতাবেক কেউ জেল হাজতে আসামি হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা কোনোরূপ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান আছে কিনা জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবু বকর সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষাবোর্ডের একজন কর্মচারীকে জেলহাজতে প্রেরণ করার বিষয়টা শুনলাম। আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে যে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আমরা সেটাই করব।