ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কোটি টাকা বিল

আইন মেনেই টাকা নেওয়ার দাবি আইএমইডির

ঘরে বসে ভার্চুয়াল মিটিং এবং এ জন্য কোটি টাকার বিলকে ‘আইনত সঠিক’ বলে দাবি করেছেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ‘করোনাভাইরাসের আগে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে মিটিংয়ের জন্য যে বিল করা হতো, ভার্চুয়াল মিটিংয়ের ক্ষেত্রেও তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এতে আইনত কোনো বাধা নেই, ব্যত্যয়ও ঘটেনি।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন খোদ আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ। গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘ভার্চুয়াল মিটিং সংক্রান্ত কোনো সম্মানি বা টাকা আমি নিইনি। আগে কর্মকর্তাদের মিটিংবাবদ অতিরিক্ত বিলের অনিয়ম রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি নিজে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছি, যা আইন অনুসারে প্রাপ্য ছিল। কিন্তু আইএমইডির কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছেন। চেষ্টা করেও এসব বন্ধ করা যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভার্চুয়াল মিটিংয়ের বিল করেছেন আইএমইডির মহাপরিচালকরা (ডিজি)। এসব মিটিংয়ের জন্য আগেই বরাদ্দ ছিল। সেখান থেকে মিটিংয়ের খরচ দেখিয়ে তারা বিল তুলেছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রী আমার কাছে জবাব চাইলে, এমন ব্যাখ্যাই দেব।’

আইএমইডিতে মোট ৯ জন ডিজি রয়েছেন। তাদের মধ্যে কৃষি ও পানিসম্পদ বিভাগের ডিজি মো. আফজাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিল করায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আগেও আইএমইডির যেকোনো মিটিংয়ের সম্মানী ও আপ্যায়ন বাবদ বিল করা হতো। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর এসব মিটিং ভার্চুয়ালি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ভার্চুয়াল মিটিং করলে সম্মানী বা আপ্যায়ন বিল করা যাবে না, এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে যা বিল হয়েছে, আইন মেনেই হয়েছে।’

করোনা পরিস্থিতিতে আইএমইডির টেকনিক্যাল, স্টিয়ারিং ও ওয়ার্কশপজাতীয় সভা অব্যাহত রাখা হয়। এসব সভার জন্য জুম অ্যাপস ব্যবহার করে আইএমইডির কর্মকর্তারা তিনটি মিটিংবাবদ বিল করেছেন ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এসব মিটিং ঘরে বসে করলেও খাবার খরচের বিল এসেছে ৪ লাখ টাকা। খাতা, কলম, প্যাড কেনা বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। জুম ডাউনলোড এবং খাতা-কলম কেনার জন্য যে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাদেরই নাকি দিতে হয় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আইএমইডির ৭৩ কর্মকর্তা এই জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। মিটিংয়ে অংশ নিয়ে প্রত্যেকে স্টেশনারি বাবদ পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা করে।