ধনকুবেরদের জন্য করোনাভাইরাস কর

শীর্ষ ৮০ জন কোটিপতি বিশ্বের সরকারগুলোকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। মিলিয়নিয়ারস ফর হিউম্যানিটি নামক একটি সংস্থা থেকে সরকারগুলোর উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠির মাধ্যমে ওই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি। চিঠিতে ‘অবিলম্বে, যথেষ্ট ও স্থায়ী’ কর ধার্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খোলা চিঠিতে জেরিস আইসক্রিমের প্রতিষ্ঠাতা জেরি গ্রিনফিল্ড, চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যাবিগেইল ডিজনির মতো ধনীদের স্বাক্ষর ছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ উদ্যোক্তা সিডনি তোপল ও নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ী স্টিফেন টিন্ডালেরও স্বাক্ষর ছিল। চিঠিতে বলা হয়, ‘কভিড-১৯ যখন সারা বিশ্বে হামলা চালিয়েছে, তখন আমাদের মতো ধনীদের এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সময় এসেছে পৃথিবীর কল্যাণে। আমাদের মধ্যে মানুষদের উপকারে আসে এমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতোও উদ্যোগ নেই।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ আছে। আর এখন এই সংকটের সময় অর্থ খুব সরকার। আগামী বছরগুলোতেও অর্থ অনেক দরকার হবে। আমাদের বিশ্বকে এই সংকট থেকে বের করে আনতে অর্থ প্রয়োজন।’ জি-২০ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের আসন্ন বৈঠকের আগেই এমন চিঠি প্রকাশিত হলো, যা গুরুত্ব বহন করছে।

বিশ্বে ধনী দেশগুলোতে করোনাভাইরাস ভয়াবহ থাবা বসিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে প্রতিদিন অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যতদিন পর্যন্ত ভাইরাসটির প্রতিরোধী টিকা আবিষ্কার না হয় ততদিন পর্যন্ত বিশ্বকে চড়া মাশুল গুনতে হবে বলে মনে করছেন ওই ধনীরা। যুক্তরাজ্যের দ্য ইনস্টিটিউট অব ফিসক্যাল স্টাডিজ থিংকট্যাংকের মতে, শুধু অতিরিক্ত ধনী নয়, আরও অনেকের ওপর চড়া কর ধার্য করা উচিত।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এক ইঙ্গিতে বলেছিলেন, তার সরকার হয়তো অতিরিক্ত কর ধার্য করতে যাচ্ছে। রাশিয়াও তার শীর্ষ ধনীদের ওপর এমন কর ধার্য করবে বলে জানা যায়। সৌদি আরব ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের কারণে তেলের দাম কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। দেশটি এই ক্ষতি পোষাতে কর বৃদ্ধিও করেছে। নিকট ভবিষ্যতেই আরও অনেক দেশ এমন সিদ্ধান্তের দিকে যাবে। তবে শীর্ষ ধনীরা বলছেন, সরকারের কর বাড়ানোতে যাতে দরিদ্ররা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ, তারা এমনিতেই ভাইরাসের কারণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।