আজ ১৪ জুন; ঠিক এক বছর আগে ইতিহাসে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ফাইনাল দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। দুইবারের সুপার ওভারের ওই ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের বছর পূর্তির দিন নতুন এক তথ্য আসলো সংবাদমাধ্যমে। সুপার ওভারের চাপ কাটাতে নাকি ধূমপান করেছিলেন চ্যাম্পিয়ন দলের নায়ক বেন স্টোকস।
স্টোকস ব্যাট হাতে সেদিন দাপট দেখিয়েছিলেন। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ইনিংসই ইংল্যান্ডকে শিরোপা জিততে বড় ভূমিকা রাখে, সেই স্মৃতি আজও তাজা ব্রিটিশদের মনে।
ঐতিহাসিক ওই জয়ের বেশির ভাগ কৃতিত্বই দেওয়া হয় স্টোকসকে। কিভাবে তিনি চাপ নিয়ে বড় স্কোর করে দলকে ড্র করতে সাহায্য করেছিলেন কঠিন পরিস্থিতি থেকে। সেই জয়ের এক বছরে নতুন কাহিনি খোলসা শোনা গেল।
জানা গিয়েছে, ম্যাচ সুপার ওভারে পৌঁছানোর পর প্রচণ্ড চাপে চলে গিয়েছিলেন তিনি। আর সেই চাপ কাটাতেই সেই সময় তিনি সিগারেট জ্বালিয়েছিলেন। ‘মর্গ্যান মেন: দ্য ইনসাইড স্টোরি অব ইংল্যান্ডস রাইজ ফ্রম ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ’ বইটিতে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
বইটি লিখেছেন লিক হল্ট এবং স্টিভ জেমস। বইটি নিয়ে স্টাফ ডট কো ডট এনজেড তাদের আর্টিকেলে লিখেছে, ‘‘লর্ডসে তখন শব্দের বিস্ফোরণ চলছিল। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম থেকে মিউজিক ভেসে আসছিল এবং পরিবেশ অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল যখন ম্যাচ সুপার ওভারে পৌঁছেছিল। সাত সপ্তাহের টুর্নামেন্টের শেষ অপেক্ষা করেছিল ১২ বলের ওপর। এবং ইংল্যান্ড দলের ভাগ্য নির্ধারণ করছিল।''
২৭ হাজার দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়ামে সুপার ওভার শুরু হচ্ছিল এবং ক্যামেরা সব খেলোয়াড়দের মুখকে এক এক করে ধরছিল। মাঠ থেকে লং রুম এবং ড্রেসিংরুমে।
বেন স্টোকস লর্ডসে অনেকবার খেলেছে। তিনি এখানকার প্রতিটি কোনা জানেন। ইয়ন মর্গ্যান টেষ্টা করছিলেন ইংল্যান্ড ড্রেসিংরুমকে ঠান্ডা করার। এবং পরিকল্পনা আলোচনা করছিলেন। স্টোকস তার মধ্যেই শান্ত হতে চাইছিলেন, ঘামছিলেন।
তার আগে তিনি দু'ঘণ্টা ২৭ মিনিট ব্যাট করেছিলেন চূড়ান্ত চাপের মধ্যে। স্টোকস কী করছিলেন? ইংল্যান্ড ড্রেসিংরুমের পেছনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে একটা ছোট্ট অফিস ছিল। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি সিগারেট জ্বালান এবং কিছুটা সময় নিজের মতো কাটান।
নির্ধারিত ওভারের খেলা শেষ হওয়ার পর সুপার ওভারেও ম্যাচ ড্র হয়ে যায়। দুই দলই ছয় বলে ১৫ রান তোলে। এবার ছিল ফলের পালা। এর পর আর কিছু নেই বিশ্ব ক্রিকেটে। সুপার ওভার ড্রয়ের পর বিচার হল ম্যাচের বাউন্ডারি দিয়ে। সেখানে দেখা গেল ইংল্যান্ড ২৬ ও নিউজিল্যান্ড ১৭টি বাউন্ডারি মেরেছিল। সেই হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল ইংল্যান্ড। ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন স্টোকস।