করোনাকালে মাঠে খেলা নেই। উপার্জনও বন্ধ। ওদিকে বাবাও অসুস্থ। ভারতের উদীয়মান ফুটবলার দীপ বাগকে তাই বাধ্য হয়ে সবজি বিক্রি করে পরিবার চালাতে হচ্ছে।
২০ বছর বয়সী দীপ বাগ মোহনবাগানের জুনিয়র একাডেমির ফুটবলার। দুর্গাপুর মোহনবাগান একাডেমিতে অনুশীলন করা দীপ গত বছর চুটিয়ে ক্লাবের জার্সিতে খেলেছেন। স্টপার পজিশনে খেলতেন।
গত বছর অনুর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ‘বিতর্কিত’ ডার্বি ম্যাচে খেলেছিলেন সবুজ মেরুন জার্সিতে। দর্শকদের হাঙ্গামার সেই ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়। ইস্ট-মোহন দুই দলকেই যুগ্ম জয়ী ঘোষণা করা হয়।
একাডেমিতে থাকাকালীন ১০০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড পেতেন দীপ বাগ। সেই টাকা আর বাবার উপার্জনের টাকায় সংসারের খরচ চলত তাদের।
কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবে খেলা ছেড়ে বাড়িতে ফিরতে হয় দীপকে। ৬৮ বছরের বৃদ্ধ বাবাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের তাগিদেই এরপর রাস্তায় সবজি বিক্রি করতে নেমে পড়েন সম্ভাবনাময়ী এই ফুটবলার।
হুগলি জেলার কোন্নগরের বাসিন্দা দীপ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘লকডাউনের সময় বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই রিকশা টানতে পারছেন না। সেই কারণেই এই কাজ বেছে নিই। এখন অন্তত পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার জোটে।’
দীপেই এই দুর্দশা নজরে আসতেই অবশ্য ফ্যান ক্লাব এগিয়ে আসার বার্তা দিয়েছে। মোহানবাগান ফ্যান গ্রুপ ও দিল্লি মেরিনার্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীপের জন্য ফান্ড তোলার কথা জানিয়েছে।
জীবনের তাগিদে সবজি বিক্রি করতে হলেও ফুটবল ছাড়তে রাজি নয় দীপ। বলছিলেন, ‘একবার এই সময় কেটে যাক, তারপরে পেশাদারিভাবে আবার মাঠে ফেরার চেষ্টা করব। আশা করি আইলিগে খেলতে পারব। কারণ ফুটবলই আমার কাছে একমাত্র স্বপ্ন।’