নতুন ডিজির খোঁজে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের নানা উদ্যোগ ঘিরে প্রকাশ হয়ে পড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনার দায় শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপরই এসে পড়ছে। বিশেষ করে জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের ভুয়া পরীক্ষা ও পরীক্ষা না করেই কভিড-১৯ সনদ দেওয়া এবং বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এ দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছে অধিদপ্তর। এজন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে তার পদ থেকে সরে যেতে হতে পারে।

এ দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি এবং চিকিৎসকদের জন্য নিম্নমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) ও করোনা পরীক্ষার কিট কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে দুজন কর্মকর্তার নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। এমনকি শুরু থেকেই কম পরীক্ষার জন্য সমালোচনার মুখে থাকা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কিছু পদেও পরিবর্তন আসতে পারে।

অবশ্য এসব কেলেঙ্কারির ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে অবহেলা, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের তদন্তসাপেক্ষে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের এক চিকিৎসক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে নতুন মহাপরিচালক আসবেন। নতুন মহাপরিচালকের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও রোগতত্ত্ব বিভাগ এবং আইইডিসিআরের এক কর্মকর্তার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তবে মহাপরিচালক পদে সরকার সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন থেকে কারও ডিজি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এর আগে গত জুলাই মাসের শেষের দিকে ডিজিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি তালিকা পাঠানো হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের কয়েকজন হাসপাতাল পরিচালক ও চিকিৎসক নেতার নাম দেওয়া হয়। কিন্তু সেসব নামে সম্মতি দেয়নি কার্যালয়। এছাড়া বিএমএ ও স্বাচিপের যেসব নেতা, তারা কেউই বর্তমানে সরকারি চাকরি করেন না এবং অনেকের সরকারি চাকরির বয়সও শেষ। সরকারি চাকরি যারা করেন, তাদের মধ্যে থেকেই কাউকে আনা হতে পারে।

এর আগে গত জুনের শেষের দিকেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে বেশ আলোচনা ওঠে। ফেইসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, তাকে সরিয়ে তার স্থলে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে চিকিৎসক নেতাসহ স্বাস্থ্য খাতে কর্মরতদের পাশাপাশি এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। করোনা পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতি সামাল দিতে না পারার দায়ে এ মহাপরিচালকের অপসারণ চাইলেও তার স্থলে কোনো আমলাকে চান না বলে জানান অনেকে। তারা চিকিৎসকদের মধ্য থেকেই সৎ, যোগ্য ও দক্ষ কাউকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে এবং ডিজিকে সরে যেতে হচ্ছে, এমন কথাও শোনা যাচ্ছে এসব নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি তো অস্থিরতা দেখছি না। তবে দুশ্চিন্তা হতেই পারে কারণ পুনর্বিন্যাস হচ্ছে, বদলি হচ্ছে। আর দুশ্চিন্তা তো তাদেরই বেশি যারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে। যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের টেনশন নেই। কোনো সমস্যা নেই।

এরই মধ্যে গতকাল বুধবার রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিজ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নানের কাছে লিখিত বক্তব্য জমা দেন। লিখিত বক্তব্যে মহাপরিচালক রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে ‘ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ’র নির্দেশের কথা বলেছিলেন, সে ব্যাপারে লিখিত বক্তব্যে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান। আসাদুল ইসলাম বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে গত ১২ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের কাছে রিজেন্টের মতো ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করোনা চিকিৎসা ও পরীক্ষার ব্যাপারে চুক্তির ব্যাখ্যা দাবি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আকতার জাহান স্বাক্ষরিত এ অফিস আদেশে ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ’ বলতে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এ সংকটের সমাধান কী জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি অধিদপ্তরের এক সাবেক মহাপরিচালক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। টেকনিক্যাল সমস্যা আছে। তবে এ পরিস্থিতির উত্তরণ হওয়া উচিত। কারণ এমন পরিস্থিতি করোনা মোকাবিলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সাবেক মহাপরিচালক বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অন্যরকম’ বলে মনে করছেন এবং এ পরিস্থিতির সঙ্গে অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের বিগত সময়ের পরিস্থিতির মিল নেই বলেও জানান। তবে তিনি ‘সমন্বয়ের অভাব’ মূল কারণ বলে মনে করেন।

এমন পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে আইইডিসিআরের পরামর্শক ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সমস্যা হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের কাঠামোটাই গোলমেলে। মন্ত্রণালয় চালায় যারা, তারা বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নন। বিশেষজ্ঞ হলো অধিদপ্তর। আবার অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে যারা থাকেন, তারা মন্ত্রণালয়ের মতো কর্র্তৃত্ব করতে চান। যেমন মহামারী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইইডিসিআরের। কিন্তু তাদের পাশ কাটিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সব দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। আবার মন্ত্রণালয় মনে করে ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী তারাই সব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি কোন ফাঁকে সংক্রামক প্রতিরোধ আইনের নির্বাহী কর্র্তৃত্ব নিয়েছেন, সেটা তো হতে পারে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে আবার ক্যাবিনেট ডিভিশন গার্মেন্টস খুলে দিচ্ছে, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এসবের মূলে হলো এসব লোকজন মনে করছে মহামারী এমনি চলে যাবে। তারা সিরিয়াস নয়। মহামারী কী ধরনের ক্ষতি করতে পারে, সেটা তাদের ধারণা নেই। ফলে যার যার ব্যক্তিগত ক্ষমতা, অর্থ খরচ করা, কর্র্তৃত্ব দেখাচ্ছে। যারা মহামারী নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে, তাদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে একের পর এক নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে।

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, মহামারীতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ চিত্র যেমন উঠে এসেছে, তেমনি স্বাস্থ্য শাসন ও প্রশাসন ব্যবস্থারও করুণ চিত্রও স্পষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য প্রশাসন যে স্বাস্থ্যবান্ধব নয়, সেটাও ফুটে উঠেছে। এখন এসব ঘটনা ঘটছে, কারণ স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কাঠামোতে সমস্যা।

সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করে আওয়ামী লীগের এক চিকিৎসক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিজেন্টের কেলেঙ্কারি প্রকাশ হওয়ায় এখন কেউ দায়-দায়িত্ব নিতে চাইছে না। শুধু মন্ত্রী, সচিব ও ডিজি দায়ী নয়, সরকার সমর্থিক চিকিৎসক নেতারাও জড়িত। এটা অবৈধ চুক্তি। রিজেন্ট প্রথমে লাইসেন্স নেয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য। পরে এটা হাসপাতালে পরিণত হয়। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স দিয়েই হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ ঘটনার প্রথম দায় অধিদপ্তরের ডিজি ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর। আবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ হয় মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ফলে সচিব ও মন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও দায় এড়াতে পারেন না। কারণ রিজেন্টের সঙ্গে যে চুক্তি, মন্ত্রী ও ডিজির পাশাপাশি তিন মন্ত্রণালয়ের তিনজন সচিব ছিলেন।

এ চিকিৎসক নেতা বলেন, রিজেন্টের সঙ্গে যে চুক্তি তার জন্য হাসপাতালের পরিচালকই যথেষ্ট। যে ভিভিআইপি মর্যাদা দিয়ে চুক্তি করা হলো, সেখানে কোনো উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ছিল বলেই মনে হয়। ওপরের নির্দেশ ছাড়া ডিজির একার ক্ষমতা নেই এই চুক্তি করা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিছুতেই তার দায় এড়াতে পারেন না উল্লেখ করে এ চিকিৎসক নেতা বলে, মন্ত্রী বলেছেন, তাকে থাকতে বলা হয়েছে বলে তিনি থেকেছেন। অথচ উনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান। তিনি না জেনে কোনো চুক্তি করতে পারেন না।

এসব নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে। বিব্রতকর সময় পার করছেন তারা। অধিদপ্তরের নানা কাজেও বিঘœ ঘটছে বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেদিকে চেয়ে আছেন তারা। কে ফেঁসে যান, সে চিন্তাও রয়েছে তাদের মধ্যে। কেউ কেউ অফিসেও দেরি করে আসছেন। এদের মধ্যেই দুয়েকজন কর্মকর্তা কাজ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন।

এসব নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে চাননি। গত কয়েক দিন ধরেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও হাসপাতাল পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান। মহাপরিচালককে ফোন দিলে তিনি ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আর হাসপাতাল পরিচালক ‘তথ্যের জন্য তথ্য আইনে’ আবেদন করতে বলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে শুরু থেকেই অধিদপ্তরে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা চলছে। কোনো ‘চেইন অব কমান্ড’ মানা হচ্ছিল না। বাইরে থেকেও নানা কাজের জন্য নানা ধরনের চাপ আসত। রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়তে থাকে। ফলে কে কী কাজ করছে, সেটা কতটুকু সঠিক বা ভুল হচ্ছে, সেসব ব্যাপারে আগ বাড়িয়ে কোনো মন্তব্য করত না। এছাড়া কেনাকাটায় আর্থিক লাভ-লোকসানের বিষয়ও জড়িত।

জেকেজি ও রিজেন্টের প্রতারণা প্রকাশ হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, তিনি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন। এর পক্ষে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) আমিনুল হাসান মহাপরিচালককে যে নথি (ফাইল নোট) দিয়েছেন, সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে কে নির্দেশ দিয়েছেন। এ নোট উপমহাপরিচালক (এডিজি) হয়ে মহাপরিচালকের কাছে যায়। এরপর যখন সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়, তখন কারা উপস্থিত ছিলেন সেই ছবিও রয়েছে। শুধু অধিদপ্তর চুক্তি করেছে, মন্ত্রণালয় কিছু করেনি এটা ঠিক নয়।

ওই চুক্তি অনুষ্ঠানের ছবি বেশ আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যাচ্ছে, অনুষ্ঠানে অন্যদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রীর পেছনে আগের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, হাসপাতাল শাখার পরিচালক আমিনুল হাসান ছিলেন। মন্ত্রীর ডান পাশে রিজেন্টের মালিক, বাঁ পাশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে নানা কাজ ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় দ্বন্দ্ব ছিল। শুরু থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। পরে মন্ত্রণালয়ও একই ধরনের সেল গঠন করে ও ব্রিফিং করতে থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যবিদদের নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটি গঠন করে। আর মন্ত্রণালয় গঠন করে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে পাশ কাটিয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয় করোনার ব্যাপারে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়। এসব নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। তবে গত মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুরোধে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন। তবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে কোনো সমস্যা আছে বলে তিনি মনে করেন না।