করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েকদিন কোয়ারেন্টাইনে থেকেই জাইর বলসোনারো জানিয়েছিলেন, এভাবে আর থাকতে পারছেন তিনি; হাফিয়ে উঠেছেন। সত্যিই শরীরে করোনা আছে কি-না তা যাচাই করতে আবার টেস্ট করাবেন। দুর্ভাগ্য ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের। দ্বিতীয় টেস্টেও পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে তার।
বুধবার ব্রাসিলিয়ার সরকারি বাসভবন থেকে নিজেই ফেসবুকে এ খবর জানান বলসোনারো। মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় টেস্ট করান তিনি, এদিন সন্ধ্যায় রিপোর্ট হাতে পান। তবে তা প্রকাশ করেন পরের দিন।
করোনা থেকে সেরে না উঠলেও ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বলসোনারো, “আমি ভালো আছি, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। গতকাল সকালে টেস্ট করিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় ফল আসে। তাতে দেখা যায়, আমি এখন করোনাভাইরাসে পজিটিভ।”
বলসোনারো জানিয়েছেন, কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলেও কোনো ধরনের লক্ষণ অনুভব করছেন না। আর বিতর্কিত ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন খাওয়াও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার দাবি, গত সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল এই ওষুধ খাচ্ছেন এবং এটা ভালো কাজে দিচ্ছে।
ওষুধটি মূলত ম্যালেরিয়ার। করোনায়ও এটি কাজে দেয় বলে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিলসহ অনেক দেশ এটি প্রয়োগের অনুমতি দেয়। যদিও কভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো সঠিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিজ্ঞানীরাও।
এ ব্যাপারে ৬৫ বছর বয়সী বলসোনারো বলছেন, “আমি কোনো কিছুর সুপারিশ করছি না। আমি শুধু আপনাকে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে বলব। আমার ক্ষেত্রে সামরিকবাহিনীর একজন ডাক্তার আমাকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিতে বলেছেন। এটা কাজে দিচ্ছে।”
গত সোমবার করোনায় আক্রান্ত বলসোনারো ব্রাজিল সিএনএনকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আইসোলেশনে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছেন তিনি। তার সবকিছুই ভালো আছে, কোনো লক্ষণ নেই। আবার টেস্ট করাবেন। রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে দৈনন্দিন কাজে ফিরে যাবেন।
ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দেননি বলসোনারো। লকডাউন, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব এসবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন তিনি। তার মতে, কভিড-১৯ ‘সামান্য ফ্লু’ জাতীয় রোগ। অঙ্গরাজ্যগুলো লকডাউনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গভর্নরদের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি বলসোনারো।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় দ্বিতীয়স্থানে আছে ব্রাজিল। দেশটিতে আক্রান্ত এরই মধ্যে ১৯ লাখ ছাড়িয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৪ হাজার।