নীলফামারীতে নদীর পাড়ে ট্রাংকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ

নীলফামারীতে নদীর ধারে পড়ে থাকা তালাবদ্ধ ট্রাংক থেকে পাওয়া গেলে অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের রামডাঙ্গা ফরেস্ট সংলগ্ন শিংহারা নদীর ধারে ফেলে রেখে যাওয়া ট্রাংকের তালা ভেঙ্গে যৌথভাবে ওই মরদেহ উদ্ধার করে সিআইডি, পিবিআই, ডিবি এবং  ডিমলা থানা পুলিশ সদস্যরা। 

এ সময় সেখানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান (বিপিএম,পিপিএম) সহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে তালা লাগানো ট্রাংকটি দেখতে কৌতুহলী হাজারো মানুষ ভিড় জমায় শিংহারা নদীর দুই ধারে বলে জানান বলে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার মধ্য রাতে বালাপাড়া ইউনিয়নের রামডাঙ্গা ফরেস্ট শিংহারা নদীর সংলগ্ন রাস্তার ধারে একটি তালাবদ্ধ ট্রাংক দেখতে পাওয়া যায়। রাতেই ডিমলা থানা পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে রাতভর সেটি পাহারায় রাখে। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা দের উপস্থিতিতে  ট্রাংকের তালা খুলে অজ্ঞাত এক যুবকের অধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, ‘ট্রাংকটিতে তালা থাকায় বিস্ফোরক থাকতে পারে সন্দেহে আমরা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এবং গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) খবর  দিয়ে সেখানে সারা রাত পুলিশ পাহারা রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান (বিপিএম,পিপিএম) এর উপস্থিতিতে সিআইডির বোম ডিস্পোজাল ইউনিট সদস্যরা, পিবিআই, ডিবি ও ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ট্রাংকটি তালা খুলে। ওই ট্রাংকের ভেতর থেকে কম্বল মোড়ানো ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘ওই মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই ট্রাংকের ভেতর থেকে ২০১৯ সালের একটি চিকিৎসা পত্র পাওয়া গেছে। ওই চিকিৎসা পত্রে জিয়াউর রহমান, ঠিকানা দিনাজপুর লেখা রয়েছে।’

ঘটনাটি রহস্যজনক উল্লেখ করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান (বিপিএম,পিপিএম) বলেন, ‘এঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের পরিচয়সহ রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। আশাকরছি দ্রুত এই রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হবো আমরা।’