পশুর ন্যায্যমূল্যের সংকটে বন্যাকবলিত চরবাসী

বন্যার দুর্যোগ ও রোগবালাই মোকাবিলা করেও কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষজন এবার ঈদে প্রায় ৫০ কোটি টাকার গবাদিপশু বেচাকেনা করবেনÑ এমনটা আশা করছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট ইজারাদাররা। তবে বন্যাকবলিত এসব এলাকায় এখন শুরু হয়েছে গরু-ছাগলের দালালদের আনাগোনা। তাই কষ্ট করে লালন-পালন করা গবাদিপশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন কি-না এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, নিজেরা পানিবন্দি ঘরে বাস করেও গবাদিপশুগুলোকে যেন বুকে আগলে রেখেছেন। তবে চোরাপথে আসা ভারতীয় গরুর দাম কম হওয়ায় চরের এসব বানভাসি মানুষের লালন করা স্বপ্ন ও হিসাব গোলমাল হয়ে যেতে পারে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়, জনপ্রতিনিধি, খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমুর নদের সাড়ে চার শতাধিক চরে এবার আট লক্ষাধিক গবাদিপশু পালন করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। রৌমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, শুধু উলিপুর উপজেলায় গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখ। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার গরু প্রতি বছর জেলার বাইরের পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবারের হাটগুলোয় বাইরের জেলা থেকে আসা পাইকারের সংখ্যা একেবারেই কম।

উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর মহম্মদ গ্রামের আবদুস ছাত্তার জানান, তিনি দেড় বছর ধরে ৮টি মহিষ ও ৬টি গরু পালন করেছেন। বন্যায় এসব গরুর খাদ্য জোটাতে গিয়ে জমানো টাকা পয়সা শেষ। মহিষ, গরু কিনতে দালাল এসেছিল বাড়িতে। ২ লাখ টাকার মহিষ ৭৫ হাজার টাকা দাম বলে। ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার গরু ৫০ হাজার টাকা দাম দিতে চায়।

ঢাকার আমিন বাজারের গরু ব্যবসায়ী সামসুল হক পাটোয়ারী তার অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে প্রতি বছর ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকার গরু-ছাগল বেচাকেনা হয়। কিন্তু করোনার কারণে এবার চাহিদা কম।