করোনার নমুনা সংগ্রহে অতিরিক্ত ফি আদায়: স্বাস্থ্য সহকারিকে গণধোলাই

করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি হাসপাতালে ২’শ আর বাসায় ৫’শ এমন নিয়ম থাকলেও রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল মতিন সাধারণ লোকজনের কাছ থেকে আদায় করতেন কয়েক হাজার টাকা।

কখনো কখনো ব্যাক্তিভেদে এ টাকার পরিমাণ হয়ে যেত ৩ হাজার ৫ হাজার টাকা। সরকারি ফি নির্ধারনের পূর্বেও গাজী পিসিআরকে বিতর্কিত করতে কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে করোনার নমুনা পরীক্ষার সিরিয়াল আগে দিয়ে দিতো বলেও অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য সহকারী মতিনের বিরুদ্ধে। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল গাজী গ্রুপের নিজস্ব অর্থায়নে রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনে বেসরকারিভাবে একটি পিসিআর ল্যাব চালু করা হয়। যেখানে রূপগঞ্জসহ সিদ্ধিরগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও ও ঢাকার কয়েকটি স্থানের নমুনা এখানে সংগ্রহ করে এখানে পরীক্ষা করা হয়। 

গত ৮ জুলাই জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে চারজন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিতে আসেন। এ সময় স্বাস্থ্য সহকারী মতিন তাদের প্রতিজনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন। নমুনার সংগ্রহের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও করোনা পরীক্ষার রির্পোট না পেয়ে গত ১৩ জুলাই দুপুরে ওই চারজন রোগী রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে মতিনকে রিপোর্টের দেওয়া কথা বলেন। এ সময় মতিন তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ওই চার জন রোগীর নমুনা পরীক্ষায় প্রতিজন থেকে ১ হাজার টাকা গ্রহণ করেও রিপোর্ট দিতে দেরী হওয়া নিয়ে আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাদের বাক বিতন্ডা হয়।

এক পর্যায়ে ওই চারজনসহ আরো কয়েকজন ভুক্তভোগী একই অভিযোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই আব্দুল মতিনকে গণধোলাই দেয়। এ সময় চিৎকার শুনে হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আব্দুল মতিনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা প্রদান করেন।

গণধোলাইয়ের পর থেকেই আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে করোনা নমুনা সংগ্রহের সময় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ আসতে থাকে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে এ ব্যাপারে কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজী হননি। 

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সাইদ আল মামুন বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি থেকে অতিরিক্ত ২’শ টাকা গ্রহণ করেছিল মতিন। তা ফেরত দেওয়া নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হলে তাদের মাঝে হাতাহাতি হয়। তবে তাৎক্ষনিক তা মিমাংসা করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যাপারে যদি কোন অভিযোগ পাই তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।