সম্প্রতি নাকের ভেতর থেকে সোয়াব বা নমুনা নেওয়ার একটি ছবি ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার বা মস্তিষ্কের সুরক্ষা দেয়াল থেকে নেওয়া হচ্ছে নমুনা। যা মানুষের শরীরের ক্ষতি করে। তবে বিবিসির রিয়ালিটি চেক বিভাগ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করে দেখেছে নাকের ভেতর থেকে নমুনা নেওয়ার সময় ওই দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছানো একেবারেই অসম্ভব।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের দেয়ালে যে রক্তনালিগুলো আছে, সেটার মধ্যে থাকা ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার হলো শক্তভাবে ঠাসা কোষের স্তর। এই সুরক্ষা স্তরের কাজ হলো রক্ত থেকে ক্ষুদ্র অণুকে মস্তিষ্কে ঢুকতে বাধা দেওয়া। কিন্তু রক্ত থেকে অক্সিজেন এবং পুষ্টি এই স্তর ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকতে পারে। কাজেই নাকের ভেতর দিয়ে সোয়াব নেওয়ার জন্য কাঠি ভেতরে ঢোকানো হলে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছতে তাকে প্রথমে অনেকগুলো কোষের স্তর ভেদ করতে হবে, তারপর খুলির হাড়ের মধ্য দিয়ে ঢুকতে হবে মস্তিষ্কের দেয়ালে রক্তনালির ভেতর, যা অসম্ভব।
ব্রিটিশ নিউরোসায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের ড. লিজ কোলথার্ড বিবিসিকে বলছেন, নাক থেকে নমুনা নেওয়ার পদ্ধতিতে যে সোয়াব স্টিক ঢোকানো হয় তা ‘ ব্লাড ব্রেন ব্যারিয়ার’ বা রক্তনালির সুরক্ষা দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছতে হলে যথেষ্ট জোরে সেটা ঢোকাতে হবেÑ এতটা জোরে যাতে কয়েক স্তর কোষ, কলা ও হাড় ভেঙে সেটা ঢুকতে পারে। কভিড সোয়াব নেওয়ার সময় এ ধরনের জটিলতার কোনো ঘটনা আমরা দেখিনি।
বিবিসি বলছে, নমুনা সংগ্রহ নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়াতে শুরু করে ৬ জুলাই। আমেরিকার কিছু ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এবং কোনো কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে এই তথ্যের সঙ্গে টেস্টিং প্রত্যাখ্যান করারও আহ্বান জানানো হয়। বিবিসি অনুসন্ধানে রুমানিয়ান, ডাচ, ফরাসি, পর্তুগিজ ভাষায় এই পোস্টে হাজার হাজার এনগেজমেন্টের নজির দেখেছে। করোনাভাইরাস পরীক্ষার সরঞ্জাম থেকে সংক্রমণ ঘটতে পারে এমন ধারণা দিয়েও তথ্য ছড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের একটি খবরে করোনা পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চালানো সমীক্ষার ফলাফলে বেরিয়ে আসা কিছু ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষা এবং বিভিন্ন ল্যাবে যথেষ্ট সতর্কতা না নেওয়ার খবর এবং এসব সমস্যাই যে সিডিসির টেস্টিং কর্মসূচি চালু করতে দেরি হওয়ার কারণ, সেটাই ছিল এই খবরের মূল বিষয়। কিন্তু ফেইসবুকের পোস্টে সংবাদপত্রের নিবন্ধটির ছবি এমনভাবে তোলা হয়েছিল, যেখানে শুধু শিরোনামই দেখা গেছে, আসল খবর সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে পাঠকরা ওই শিরোনামে বিভ্রান্ত হয়।